ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

১৪ কার্তিক ১৪৩৩, ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, থানায় জিডি

বরগুনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১:১২, ৩১ আগস্ট ২০২৬

অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, থানায় জিডি

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

বরগুনার আমতলী পৌরসভার বহুল আলোচিত সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত ও হুমকির শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাদী হয়ে আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর ১২৬৪।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে পৌর কার্যালয়ের সামনের লেকে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের ঢালাই চলাকালে রডের চালিসহ একটি অংশ দেবে যায়। এমন গোপন সংবাদ পেয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে ঘটনাস্থলে যান তিনি।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নাম মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি বরগুনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সহসভাপতি ও দৈনিক কালবেলার আমতলী প্রতিনিধি।

অভিযোগে বলা হয়, তিনি ভিডিও ধারণ শুরু করতেই সেখানে থাকা ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার পেশাগত কাজে বাধা দেন। এসময় লোগোযুক্ত ক্যামেরা-মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

জিডিতে বিবাদী করা হয়েছে আমতলী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মশিউর রহমান (৫০) ও ঠিকাদারের সহযোগী মো. পানু মোল্লাকে (৪০)।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।

রোববার সকালে ঢালাইয়ের কাজ চলাকালে ওয়াকওয়ের ড্রপওয়াল ধসে পড়লে সেই অভিযোগের সত্যতা মেলে বলে দাবি স্থানীয়দের। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ঠিকাদারের লোকজন ধসে পড়া অংশ পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের মালিক মো. খাইরুল আজাদ বলেন, ‘আমার লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু পুরো কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান।’

এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘মূল পিলারে কোনো সমস্যা হয়নি। সেন্টারিংয়ের সাপোর্ট খুলে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।’

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে একজন পেশাদার সাংবাদিককে দায়িত্ব পালনে বাধা ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বরগুনার সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন