ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

রংপুরে ঝুকিপূর্ণ ভবনে দুশ্চিন্তায় ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা

রংপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭:৪৯, ২৭ জুলাই ২০২৫

রংপুরে ঝুকিপূর্ণ ভবনে দুশ্চিন্তায় ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট হামিদিয়া আলিম মাদরাসার একটি একতলা একাডেমিক ভবন ৭ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এটি আর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভবনের বিভিন্ন স্থানের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বের হয়ে আছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এই ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা। ভবনটির বেহাল দশার কারণে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরাও থাকেন চরম দূরচিন্তায়।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নে একমাত্র মাদরাসা এটি। এই মাদরাসায় এবতেদায়ী থেকে আলিম পর্যন্ত লেখাপড়া হয়। লেখাপড়ার দিক থেকেও এগিয়ে আছে মাদরাসাটি। কিন্তু ভবনের অবস্থা এতটাই খারাপ যে এটি যে কোনো সময় সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না।

মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও বালারহাট ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত জানান, মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পার হলেও তেমন কোন সংস্কার হয়নি। বর্তমানে মাদরাসাটিতে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী আছে। মাদরাসাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা হওয়ার পরও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। শিক্ষকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছেন। মাদরাসাটির পরিত্যক্ত ভবনটি সংস্কার জরুরী।

৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহজামিন, ফাহমিদা আরেফিন বলেন, ‘স্যার এইখানে বসে লেখাপড়া করতে ভয় লাগে। ছাদ ভেঙে আমরা আহত হই।’ অভিভাবক সাইফুল ইসলাম ও আব্দুল হামিদ বলেন, ‘পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নেওয়া হয়। এ কারণে আমরা সন্তানদের মাদরাসায় পাঠাতে ভয় পাই।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদরাসাটির তিন কক্ষবিশিষ্ট পরিত্যক্ত ভবনটিতে একটিতে শিক্ষক মিলনায়তন। আর বাকি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। ভবনটির প্রতিটি পিলারে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের সামনের অংশের বিম ভেঙে গেছে। বিদ্যালয়ের ভেতরের বিমগুলোর অবস্থাও করুণ। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাকিসব শ্রেণির পাঠকক্ষের অবস্থা আরো নাজুক। অনেক পুরনো ভাঙ্গা টিনের ছাউনির কয়েকটি কক্ষে চলে পাঠদান।

বালারহাট ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ তাহেরুল ইসলাম বলেন, শ্রেণিকক্ষ না থাকায় অনেকগুলো জীবনের ঝুঁকি জেনেও পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নিতে বাধ্য হতে হয়েছে। এমনকি মাদরাসার মাঠে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করিয়ে মাদরাসার শ্রেণি কার্যক্রম চালানো হয়। মানসম্মত একটি একাডেমিক ভবন মাদরাসাটির সকল সমস্যা সমাধান দিতে পারে।

মিঠাপুকুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মোমেন মন্ডল বলেন, মাদরাসার পরিত্যাক্ত ভবনের বিষয়টি ইউএনও স্যার সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে

আরও পড়ুন