শিরোনাম
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪:১৮, ১৩ আগস্ট ২০২৫ | আপডেট: ১৫:৩৭, ১৩ আগস্ট ২০২৫
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
অবিরাম আন্দোলনের ১৮তম দিনে সকাল ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্টেশনে সমবেত হয়ে রেললাইনে বসে পড়েন। খবর পেয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ জানালেও শিক্ষার্থীরা দাবি পূরণের নিশ্চয়তা না পেয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যান।
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম হোসেন, সাবরিনা সালাত ও সুজনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, প্রতিষ্ঠার নয় বছর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ শুরু হয়নি। গত ২৬ জুলাই একনেক সভায় ডিপিপি অনুমোদনের কথা থাকলেও তা কৌশলগতভাবে আটকে রাখা হয়েছে। শাহজাদপুরের বুড়িপোতা জিয়া মৌজায় বরাদ্দকৃত একশ একর জমির অধিকাংশ দখলদারদের দখলে থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। চলনবিল সংগ্রাম কমিটির কয়েকজন স্বার্থান্বেষী নেতা পরিবেশ অধিদপ্তর সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে পরিবেশ উপদেষ্টাকে প্রভাবিত করায় একনেক সভায় অনুমোদন আটকে যায় বলেও তারা অভিযোগ করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প ঝুলে থাকায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। সরকার থেকে সুস্পষ্ট ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
উল্লাপাড়া রেলস্টেশন মাস্টার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, সকাল ৯টা ৫ মিনিটে রেল অবরোধ শুরু হলে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস জামতৈল স্টেশনে এবং রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস লাহিড়ী মোহনপুর স্টেশনে আটকা পড়ে। রেল নিরাপত্তায় উল্লাপাড়া থানা ও রেলওয়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ বর্জন করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এরপর থেকে তারা বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ, পথনাটক, মানববন্ধন, সেমিনার সহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। এসব কর্মসূচিতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ বুধবারের রেল অবরোধের মাধ্যমে তারা আন্দোলনের চাপ আরো বাড়ালেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে