শিরোনাম
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭:৩১, ৬ অক্টোবর ২০২৫
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের গাজীরমোড়ে রাত জেগে সময় কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের গাজীরমোড় ও বটতলা এলাকায় স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে মাটি ভর্তি বস্তা ফেলে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় তিস্তার পানি প্রবেশ করেছে।
পাশাপাশি তিস্তা ব্যারাজ রক্ষার একমাত্র ফ্লাইড বাইপাস সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোনো সময় লালমনিরহাট-নীলফামারীর যোগাযোগের এই মাধ্যমটি ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, রাত ৮টার পর থেকে তিস্তা নদীর ফ্লাইড বাইপাস সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে যেকোনো সময় লালমনিরহাট-নীলফামারীর এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়কটি ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা পাড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। যাতে তারা নিরাপদে স্থান ত্যাগ করতে পারে । এদিন সকাল থেকে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়ে রাত ১১টায় বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে চলাচলের রাস্তাঘাটসহ মানুষজন পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। তিস্তার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষ এখন বন্যা ও নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
হাতীবান্ধার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, আদিতমারী উপজেলার চর গোবর্ধন ও মহিষখোঁচা, এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের চর ও নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে বিপদসীমার ওপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিস্তার ফ্লাইড বাইপাস সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা পাড়ের মানুষদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।’
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএইচ