ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে সিইপিজেডের ভয়াবহ আগুন, ধসে পড়েছে ছাদ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২:১২, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে সিইপিজেডের ভয়াবহ আগুন, ধসে পড়েছে ছাদ

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) একটি পোশাক কারখানায় লাগা ভয়াবহ আগুন প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করতে আরো সময় লাগবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট টানা কাজ করেছে, এবং এখনো তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ২টার দিকে সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আটতলা ভবনের সাততলা থেকে আগুনের উৎপত্তি ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, আশপাশের কয়েকশ মিটার দূর থেকেও এর তাপ অনুভূত হচ্ছিল।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরাও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। তবে আগুনের ব্যাপকতা ও তীব্রতার কারণে সবাই এক পর্যায়ে প্রায় অসহায় হয়ে পড়েন।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, সংশ্লিষ্ট ভবনে দুটি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করে— অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড এবং জিহং মেডিক্যাল কোম্পানি। ভবনের আটতলা ফাঁকা থাকলেও সাততলায় উভয় প্রতিষ্ঠানের গুদাম ছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যাডামস ক্যাপে মূলত টাওয়েল ও ক্যাপ, আর জিহং মেডিক্যালে সার্জিকেল গাউন ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি হতো।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের একজন কর্মকর্তা বলেন, সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে ১৭টি ইউনিট এখনো কাজ করছে। আগুন পুরোপুরি নেভাতে আরো কিছু সময় লাগবে। আগুনের কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, কারখানায় প্রায় ৮০০ জন শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। আগুন লাগার পর দ্রুততার সঙ্গে সবাই বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এখন পর্যন্ত কেউ ভেতরে আটকে পড়েননি এবং কোনো প্রাণহানির খবরও পাওয়া যায়নি।

সিইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও কারখানার মালিকপক্ষও জানিয়েছে, ভবনের ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকা পড়েননি, সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আগুনে ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে, এবং ভেতরের বিপুল পরিমাণ প্রস্তুতকৃত ও কাঁচামাল পুড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানানো হবে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে

আরও পড়ুন