শিরোনাম
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬:৫০, ২০ অক্টোবর ২০২৫
আহত যুবক মো. মোস্তফা। ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
১৭ অক্টোবর ( শুক্রবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি গণঅধিকার পরিষদের একটি আলোচনা সভা শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। খাচুয়ার ব্রিজের পূর্ব পাশে পৌঁছালে জিন্স প্যান্ট পরিহিত কয়েকজন যুবক তাকে ‘ভাই’ ডেকে থামতে বলে। তিনি মোটরসাইকেল থামাতেই হঠাৎ তারা হামলা চালায়।
আহত যুবকের নাম মো. মোস্তফা (২৮)। তিনি মো. উজ্জ্বলের ছেলে এবং নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা সরকারপাড়ার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা শেষে বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন।
মোস্তফা বলেন, ‘তারা চিকন দড়ি দিয়ে আমার গলা পেঁচিয়ে ধরে, ব্লেড দিয়ে পিঠে কেটে দেয়, মুখে গামছা বেঁধে ফেলে। এরপর একজন আমার মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়, আরেকজন নেয় সঙ্গে থাকা ১৭,২০০ টাকা ও মোবাইল ফোন। বাকি চারজন বলছিল, তাকে বাড়ির দিকে নিয়ে চলো।’
তিনি আরো জানান, হামলাকারীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে— হামলাকারীরা তার স্যামসাং মোবাইল ফোন (Model: M145F/DS, IMEI-1: 35131728022738, IMEI-2: 358698310223738) এবং হোন্ডা ড্রিম মোটরসাইকেল (ইঞ্জিন নং: JC86E-1147027, চেসিস নং: PSOJC8690PH046972) ছিনিয়ে নেয়।
উদ্ধারকারী এক ভ্যানচালক বলেন, ‘তাকে আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখি। শরীরজুড়ে রক্ত, তবুও তখন কিছুটা জ্ঞান ছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাচুয়ার ব্রিজ এলাকায় সন্ধ্যার পর আলোর অভাব এবং ঝোপঝাড়ে ভরা পরিবেশের কারণে প্রায়ই অপরাধীরা আশ্রয় নেয়। তারা দ্রুত সেখানে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।
এদিকে গণঅধিকার পরিষদ এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংগঠনের সদর উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আলম বলেন, ‘এমন নৃশংস হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এলাকাটিতে ফেনসিডিলের বোতল পাওয়া মানে মাদকচক্র সক্রিয়— সেখানে নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।’
চাপড়া সরমজানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এমন হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএইচ