ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক এমপি অ্যাড. জোয়াহেরুল

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩:৫৪, ৩ মার্চ ২০২৬

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক এমপি অ্যাড. জোয়াহেরুল

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) আর নেই। সোমবার (২ মার্চ) সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

দাফনের আগে মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে গার্ড অব অনার প্রদান করে পুলিশের একটি দল। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক ইসলামের নেতৃত্বে এ সম্মাননা জানানো হয়। টাঙ্গাইল আদালত চত্বরের (হেলিপ্যাড) মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সখীপুরের বেড়বাড়ি গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

সখীপুরে জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম), সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন, ইদ্রিস শিকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খান, সুলতান শরীফ পান্না, জাহাঙ্গীর তারেক ও সাংগঠনিক সম্পাদক রনি আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফেরা

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশেষ অনুমতিতে ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট হয়ে মরদেহটি বেনাপোল চেকপোস্টে পৌঁছায়। ইমিগ্রেশনে বিশেষ ট্রাভেল পারমিট যাচাই শেষে পুলিশ মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়। সীমান্তে মরদেহ পৌঁছালে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্রুত মরদেহ টাঙ্গাইলের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

১৯ ফেব্রুয়ারি শারীরিক জটিলতা নিয়ে কলকাতার দমদম এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, মাল্টি অর্গান ফেলিওর ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শেষ দিকে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

মৃত্যুকালে তাঁর পাশে ছিলেন স্ত্রী ও এক মেয়ে। স্ত্রী মেডিক্যাল ভিসায় কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। অসুস্থতার খবর পেয়ে বিদেশ থেকে আরেক মেয়ে সেখানে পৌঁছান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখায় ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

রাজনৈতিক জীবন

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন জোয়াহেরুল ইসলাম। ১৯৭৯ সালে সরকারি সাদাত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

১৯৮৭-৮৮ ও ১৯৮৯-৯০ মেয়াদে সরকারি সাদাত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি ভারতে গিয়ে কলকাতার নিউটাউনে বসবাস শুরু করেন। পরিবার-পরিজনসহ সেখানেই অবস্থান করছিলেন।

গুজব ও বিভ্রান্তি

মৃত্যুর আগের কয়েকদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যু নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কেউ শোকবার্তা দেন, আবার কেউ গুজব বলে দাবি করেন। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটল বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে

আরও পড়ুন