শিরোনাম
সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩:৫৩, ১০ মার্চ ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ভেকু দিয়ে পুকুরটি খনন করা হয়। পরে সেখানে মাছ চাষ শুরু করা হয়। রবিবার (৮ মার্চ) সারাদিন পুকুর সেচ দিয়ে মাছ ধরার সময় জেলেদের জালে হঠাৎ একটি পাথরের মূর্তি উঠে আসে। তবে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে তারা মূর্তিটি পুকুরের পাড়ে ফেলে রাখেন।
পরে পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মো. জোনায়েদসহ কয়েকজন শিশু মূর্তিটি দেখতে পায়। তারা সেটি কুড়িয়ে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে জোনায়েদের বাবা মো. আমীর হোসেনকে দেখায়। তিনি মূর্তিটি পরিষ্কার করে দেখেন, এটি পাথরের তৈরি এবং এক পাশে খোদাই করা সাতটি সাপের ফণা যুক্ত মনসা দেবীর আকৃতির মতো একটি নকশা রয়েছে।
ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়। অনেকে ধারণা করছেন, মূর্তিটি প্রাচীন বা মধ্যযুগীয় আমলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হতে পারে। এলাকাবাসীর মতে, অতীতে ওই এলাকায় একটি প্রাচীন মঠ ছিল। সেই সূত্রেই পুকুরটির নাম ‘মঠের পুকুর’ হয়েছে। বর্তমানে অনেকে এটিকে ‘মোটের’ বা ‘মুটের পুকুরপাড়’ নামেও ডাকেন।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন্নাহার শিলা রাত প্রায় ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে মূর্তিটি জব্দ করে উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক খান মুহাম্মদ সেলিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম সরকার লাল, বড়চওনা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আতিকুল হক ছমির, মিজানুর রহমান মিজান মেম্বারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হতে পারে। বড়চওনা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমীর স্যারও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মূর্তিটির প্রকৃত ইতিহাস ও গুরুত্ব নির্ধারণ করা হবে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে