ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

কাউখালীতে মিড-ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের আশ্বাস

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫:২২, ৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৫:২৫, ৬ এপ্রিল ২০২৬

কাউখালীতে মিড-ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের আশ্বাস

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চালু থাকা মিড-ডে মিল কর্মসূচির খাবারের মান নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবি—পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে পচা ডিম, ছত্রাকযুক্ত বনরুটি ও নিম্নমানের কলা সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলার ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজার ২৮৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য এই কর্মসূচির আওতায় খাবার সরবরাহ করা হয়। চাহিদাপত্র অনুযায়ী প্রতিটি আইটেমের প্রায় ৪ হাজার ৭৫৩ পিস করে সরবরাহ করা হচ্ছে। খাদ্যতালিকায় রয়েছে ডিম, বনরুটি, দুধ, বিস্কুট ও কলা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে এসব খাবার পর্যায়ক্রমে বিতরণ করার কথা রয়েছে।

সরেজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা কলার একটি বড় অংশ অতিরিক্ত কাঁচা কিংবা পচা। অনেক ক্ষেত্রে বনরুটিতে ছত্রাক দেখা গেছে এবং ডিম ভাঙা বা নষ্ট অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ফলে অনেক শিক্ষার্থী খাবার গ্রহণে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাবার ফেলে দিতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক সময় কলার স্বাদ খারাপ লাগে এবং দুর্গন্ধ থাকায় তা খাওয়া যায় না। অভিভাবকরাও এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারের বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও যথাযথ তদারকির অভাবে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ না হওয়ার পাশাপাশি খাবারের অপচয় বাড়ছে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

জানা গেছে, এ উপজেলায় দুটি প্রতিষ্ঠান মিড-ডে মিল কর্মসূচির খাদ্য সরবরাহ করছে। এর মধ্যে ভোলাভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) ডিম, রুটি ও কলা সরবরাহ করে থাকে। অন্য একটি প্রতিষ্ঠান দুধ ও বিস্কুট সরবরাহ করে, যেগুলোর মান নিয়ে তেমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর প্রতিনিধি মো. কামরুজ্জামান বলেন, তারা নিয়ম মেনেই খাদ্য সরবরাহ করছেন। পরিবহনের সময় মাঝে মধ্যে দুই-একটি ডিম নষ্ট হতে পারে, যা পরবর্তীতে পরিবর্তন করা হয়। কলার মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ ভবিষ্যতে আর হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন। তবে বনরুটির ক্ষেত্রে উৎপাদনের পর পাঁচ দিনের মেয়াদ থাকলেও গরমের কারণে বাস্তবে তা দুই দিনের বেশি ভালো থাকে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, খাবারের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ তারা পেয়েছেন এবং দ্রুত সমাধানের জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পাবে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে

আরও পড়ুন