শিরোনাম
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭:৫১, ৭ এপ্রিল ২০২৬
নুরনবী সরকার
জানা গেছে, সম্প্রতি ঋণের টাকা পরিশোধের প্রলোভন দেখিয়ে রাসেদ মিয়া নামে এক যুবকের কিডনি অপসারণের অভিযোগে নুরনবীসহ চারজনের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট আমলি আদালত-৫-এ একটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে মামলার তিন দিনের মাথায় বাদীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাণনাশের হুমকি ও চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী ওই যুবক মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি নুরনবী সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিও বেপরোয়া আচরণ করছেন। বিভিন্ন তদবির ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে কালাই থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ‘ফ্যাসিস্ট অফিসার’ বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক যুগে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কিডনি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন নুরনবী। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করলে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সম্প্রতি তাকে কালাই উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য পদ দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ছবি ছড়িয়ে পড়লে জেলা কৃষক দল ওই কমিটি বাতিল করে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নুরনবী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাসেদ মিয়ার দায়ের করা কিডনি সংক্রান্ত মামলাটি আদালতের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে এবং আগের মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী হিসেবে পরিচিত এই ‘কিডনি নুরনবী’-কে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
আব্দুল আলীম, উদয়পুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, জানান— নুরনবী কোনোভাবেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, বরং তিনি একজন সুযোগসন্ধানী অপরাধী।
বাদীপক্ষের আইনজীবী নাফিউৎ জামান তালুকদার ডলার বলেন, আপসনামার মাধ্যমে বাদী রাসেদ মিয়া আদালতের মামলা প্রত্যাহার করেছেন।
এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম, কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জানান— পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি ও অপদস্থ করার অভিযোগে একটি জিডি করা হয়েছে, যা আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিডনি সংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে