শিরোনাম
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬:০২, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৬:০৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আজ সোমবার সকালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা-এর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পেশকার বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাছির আহমদ (৫৫) কনস্টেবল পদে পুলিশে কর্মরত ছিলেন এবং গত বছরের ১ আগস্ট অবসর গ্রহণ করেন। সর্বশেষ তিনি লক্ষ্মীপুর ট্রাফিক বিভাগ-এ কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলা-এর এখলাসপুর গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর ধরে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি পেশকার বাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। অবসরে যাওয়ার পর তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন বলে জানা যায়। তাঁর দুই ছেলের একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। ওই ছেলেকে নিয়ে সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ফলে বাসায় কেবল নাছির আহমদ ও তাঁর কলেজপড়ুয়া ছেলে ইমরান হোসেন (২১) অবস্থান করছিলেন।
সকালে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ দা দিয়ে ছেলেকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন নাছির আহমদ। আহত ছেলে প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তিনি ধাওয়া করেন। এ সময় প্রতিবেশী মিজানুর রহমান ও নাসির আহমদ দা হাতে থাকা নাছিরকে আটকাতে গেলে তাঁদেরও কুপিয়ে আহত করা হয়।
ঘটনার একপর্যায়ে হাতে দা নিয়েই তিনি তিনতলা ভবনের ছাদে উঠে নিচে লাফ দেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ছাদে বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় খবর দিলে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাছির আহমদকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল-এ নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অরূপ পাল বলেন, ‘আহত চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে ওই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ‘আমরা যতটুকু শুনেছি নাছির আহমদ মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের আলোকে এ ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে