শিরোনাম
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯:৩৬, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৩৮, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে নড়াইলের লোহাগড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফারহানা আক্তার তার দুঃখ-বেদনার কথা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২০০৯ সালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা এলাকার মুকুল মোল্যার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। জীবিকার তাগিদে তার স্বামী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। সর্বশেষ তিনি লোহাগড়ার রামপুর এলাকার নিরিবিলি পিকনিক স্পটের টিকিট কাউন্টারে ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন।
ফারহানা আক্তার জানান, গত বছরের (২০২৫) ২৭ আগস্ট কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়লে মুকুল মোল্যাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হৃদরোগে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর ফারহানা তাদের একমাত্র সন্তান ফারদিন মোল্যা (১৪)-কে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি লক্ষীপাশায় বসবাস করছিলেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর প্রায় ২৩ দিন পর, একই বছরের (২০২৫) ২০ সেপ্টেম্বর শাশুড়ি লিলিয়া বেগম, ভাসুর বাবুল মোল্যা এবং ননদ রিনা পারভীন ও সুমি বেগম পরস্পর যোগসাজশে তাকে সন্তানসহ ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তার স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র আটকে রাখা হয় বলেও দাবি করেন।
বর্তমানে একমাত্র সন্তান ফারদিন মোল্যাকে নিয়ে লক্ষীপাশা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন ফারহানা আক্তার। তার ছেলে স্থানীয় লক্ষীপাশা আদর্শ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর্থিক সংকট ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে বলে জানান তিনি।
ফারহানা আক্তার আরো জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তারই কর্মস্থল নিরিবিলি পিকনিক স্পটে স্বল্প বেতনে চাকরি করছেন। তবে তাকে চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা চলছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তিনি স্বামীর বসতভিটায় বসবাস করতে চান এবং এজন্য প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ননদ সুমি বেগমসহ অন্য স্বজনরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা ঢাকায় বসবাস করেন এবং বাড়িতে শুধু তাদের বৃদ্ধ মা ও ভাড়াটিয়ারা থাকেন। তাদের দাবি, ফারহানাকে বাড়ি থেকে না যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজ ইচ্ছায় চলে গিয়ে এখন তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে