শিরোনাম
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯:৪৯, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪৯, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন ঘাটে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে আছে শত শত ট্রলার। থেমে গেছে মাছ ধরার ব্যস্ততা, স্থবির হয়ে পড়েছে মৎস্যনির্ভর অর্থনীতি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পানপট্টি ঘাট, বোয়ালিয়া ঘাট, বদনাতলী ঘাট ও উলানিয়া ঘাটসহ উপজেলার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রগামী ট্রলারগুলো অলস সময় পার করছে। গত ১৫ এপ্রিল থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ঘাটে ফিরতে শুরু করে এসব ট্রলার। জেলেদের কেউ নতুন জাল তৈরি করছেন, কেউ আড্ডায় সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ ট্রলার মেরামতের কাজে ব্যস্ত।
নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন কয়েক হাজার জেলে পরিবার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় গলাচিপা উপজেলায় ১১ হাজার ৮৪৭ জন সমুদ্রগামী জেলেকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অধিকাংশ জেলের হাতেই এখনো পৌঁছেনি এই খাদ্যসহায়তা।
স্থানীয় জেলে মো. বাবুল বলেন, ‘আমরা সাগরে মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজ জানি না। এখন সাগরে যেতে পারছি না, আবার সরকারি চালও পাচ্ছি না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’
একই অভিযোগ করেন লঞ্চঘাট এলাকার জেলে শুক্কুর। তিনি জানান, ‘আমার কার্ড থাকলেও এখনো চাল পাইনি। পরিবারে আটজন সদস্য। বলা হচ্ছে, আরো কিছুদিন সময় লাগবে।’
অন্যদিকে, খাদ্যসহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে। জেলে শাহজাহান অভিযোগ করেন, ‘কার্ড পেতে আমাকে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা তাদের পছন্দের লোকদেরই সুবিধা দেন।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী জানান, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল দ্রুত বিতরণের কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহের মধ্যে তালিকাভুক্ত সব জেলে খাদ্যসহায়তা পেয়ে যাবেন। বিতরণ কার্যক্রম সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, তা মাঠপর্যায়ে মনিটর করা হচ্ছে।’
তিনি আরো জানান, জেলেদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী চলমান রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সকল প্রকৃত জেলেকে সহায়তার আওতায় আনা হবে।
এদিকে, সহায়তার অপেক্ষায় দিন গুনছেন গলাচিপার জেলে পরিবারগুলো। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় তাদের জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ। দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে