ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

মোটরসাইকেলে বাড়তি কর প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে মানববন্ধন

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩:৫৪, ১৭ মে ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৫৬, ১৭ মে ২০২৬

মোটরসাইকেলে বাড়তি কর প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত

মোটরসাইকেলের ওপর সরকারের সাম্প্রতিক বাড়তি কর আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সাধারণ বাইকাররা। রোববার দুপুরে রাঙ্গামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র বনরূপায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

‘আয়কর সীমার নিচে আয়, বাড়তি করের বোঝা নয়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মোটরসাইকেল চালক ও রাইডাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাইকার প্রতিনিধি নূর জাহেদ হোসেন, রঞ্জন তঞ্চঙ্গ্যা ও মো: আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মোটরসাইকেল কোনো বিলাসপণ্য নয়; বরং সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় যাতায়াতের মাধ্যম। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটিতে গণপরিবহনের সীমাবদ্ধতার কারণে মোটরসাইকেল স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাহন।

তারা আরও বলেন, জেলার অনেক বেকার যুবক মোটরসাইকেল চালিয়ে বা রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এ অবস্থায় নতুন করে বাড়তি কর আরোপ তাদের জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং অনেকের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বক্তারা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাজারমূল্যের তুলনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, পার্শ্ববর্তী দেশে যে মোটরসাইকেল প্রায় ৬০ হাজার টাকায় পাওয়া যায়, বাংলাদেশে অতিরিক্ত ভ্যাট ও শুল্কের কারণে একই বাইক দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে কিনতে হয়। এছাড়া নিবন্ধন, ট্যাক্স টোকেন ও নবায়ন ফিসহ বিভিন্ন খাতে বাইকারদের নিয়মিত কর পরিশোধ করতে হয়।

মানববন্ধন থেকে সরকারের প্রতি দ্রুত বাড়তি কর ও নিবন্ধন ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি মানা না হলে রাঙ্গামাটিসহ সারা দেশের বাইকারদের নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোটরসাইকেলের ওপর নতুন করে কর, নিবন্ধন ফি, সম্পূরক শুল্ক এবং অগ্রিম কর (AIT) পুনর্বিন্যাস করেছে সরকার। এর ফলে দেশের বাজারে মোটরসাইকেলের দাম ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস /ইউকে

আরও পড়ুন