ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

১৯৯তম ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত শোলাকিয়া ময়দান

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০০:৩৬, ২৭ মে ২০২৬

১৯৯তম ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত শোলাকিয়া ময়দান

ছবি: সংগৃহীত

১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত এখানে অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান শোলাকিয়া মাঠের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেন, “শোলাকিয়ায় ঈদুল আজহার জামাত শেষে ঈদুল ফিতরের মতো মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরবেন। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।”

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানান।

শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাতের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও সকাল ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মো. ছাইফুল্লাহ।”

তিনি জানান, দূরদূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভৈরব থেকে বিশেষ ট্রেন সকাল ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টায়। এছাড়া ময়মনসিংহ থেকে ট্রেন ছাড়বে ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে এবং কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে। ঈদ জামাত শেষে দুপুর ১২টায় উভয় ট্রেন ফিরতি যাত্রা শুরু করবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মাঠসংলগ্ন পুকুরে অজুর ব্যবস্থা থাকবে। জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া সুপেয় পানির ব্যবস্থাও থাকবে। সকাল ৮টায় সরযূ বালা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে নারীদের জন্য পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতকে নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করতে জেলা পুলিশ শতভাগ প্রস্তুত। পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকাকে কয়েকটি সেক্টরে বিভক্ত করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।”

তিনি জানান, মাঠে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি মুসল্লিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। পুরো ময়দান সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারির আওতায় থাকবে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের জায়নামাজ ছাড়া ছাতা, ব্যাগ, লাঠি বা কোনো ধাতব বস্তু সঙ্গে না আনার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তল্লাশি কার্যক্রম দ্রুত করতে সবাইকে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ঢাকা এক্সপ্রেস /ইউকে

আরও পড়ুন