শিরোনাম
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০:২৪, ২৮ মে ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নিয়ম অনুযায়ী, কোরবানির মাংস সমান দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এক ভাগ রাখা হয় কোরবানিদাতার নিজের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য। আর বাকি এক ভাগ জমা দেওয়া হয় সমাজের সাধারণ তহবিলে। পরে সেই মাংস পুরো গ্রামের সব পরিবারের মাঝে সমানভাবে বণ্টন করা হয়।
সমাজ কমিটির হিসাব অনুযায়ী, ইসলামাবাদ টেংরীপাড়া সমাজে মোট ৩৯৭টি পরিবার রয়েছে। এবার মোট ৪১টি গরু কোরবানি দেওয়া হয়েছে। সমাজের জন্য সংগৃহীত মাংস থেকে সর্বমোট ৯৫০টি ‘ভাগা’ (অংশ) তৈরি করা হয়।
তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানান, প্রতি ভাগায় মাংসের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ২৫ কেজি। সমাজের নিয়ম অনুযায়ী গ্রামের প্রতিটি মানুষ যেন মাংসের স্বাদ পান, সেজন্য প্রতিজনের জন্য ‘হাফ ভাগা’ (অর্ধেক অংশ) করে মাংস বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে ঈদের আনন্দ সমানভাবে পৌঁছে যায়।
টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক মুসলিম গ্রাম ইসলামাবাদ টেংরীপাড়া। আধুনিকতার ভিড়েও এই গ্রামের মানুষ টিকিয়ে রেখেছেন তাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া শত বছরের পুরোনো সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনন্য ঐতিহ্য। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পুরো গ্রামবাসী একসঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে এই গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় দুই হাজারের বেশি। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য পুরো গ্রামে রয়েছে মাত্র একটি জামে মসজিদ, একটি কেন্দ্রীয় কবরস্থান এবং একটি খেলার মাঠ। পুরো গ্রামের মানুষ একটিমাত্র ‘সমাজ’-এর ছায়াতলে একতাবদ্ধ হয়ে বসবাস করছেন। পূর্বপুরুষদের এই ঐতিহ্যকে তারা পরম যত্নে আগলে রেখেছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও এই শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা গর্বের সঙ্গে জানান, বর্তমান যুগে যখন সামাজিক বন্ধনগুলো শিথিল হয়ে আসছে, তখন তাদের এই একতা পুরো অঞ্চলের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। সমাজের সকলে মিলেমিশে এক মাঠে খেলাধুলা করা, এক মসজিদে নামাজ পড়া এবং একই কবরস্থানে শেষ বিদায়ের ঠিকানা খোঁজার এই যে বন্ধন—তা তারা আজীবন ধরে রাখতে চান।
ইসলামাবাদ টেংরীপাড়ার এই কোরবানি উৎসব কেবল ধর্মীয় আচার পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা রূপ নিয়েছে সাম্য, সৌহার্দ্য ও একতার এক মহোৎসবে।
ঢাকা এক্সপ্রেস /ইউকে