ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

রাকিব হত্যার পর বেগমগঞ্জে সহিংসতা, দুটি ঘর পুড়ে ছাই

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮:২২, ৩১ মে ২০২৬

রাকিব হত্যার পর বেগমগঞ্জে সহিংসতা, দুটি ঘর পুড়ে ছাই

ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামে জুবায়ের হোসেন রাকিব (২৩) হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার পরদিন রোববার (৩১ মে) বেলা সাড়ে ১০টা থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীদের পাঁচটি ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

নিহত রাকিব একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিবের স্বজন ও উত্তেজিত লোকজন এসব হামলা-ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুপুর ১২টার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অবস্থান নেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত রাকিবের বাবা ও এক ভাই প্রবাসে থাকেন। তিনি ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শপিংমলে চাকরি করতেন। কয়েক দিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শনিবার রাতে পাকমুন্সিরহাট বাজারে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় রাকিবকে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হলে তিনি ছোট ভাই রিমনকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকার একটি অন্ধকার স্থানে দুর্বৃত্তরা তাদের পথরোধ করে হামলা চালায়।

এ সময় রাকিবকে লোহার রড দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার ছোট ভাই রিমনও আহত হন। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় রাকিবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের জেরে পাঁচটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং আরও তিনটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। মামলার তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা এক্সপ্রেস /ইউকে

আরও পড়ুন