ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

১২ দিনেও মেলেনি পরিবারের সন্ধান, বাড়ি ফিরতে চান নিকেশ ঘোষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২:৫৭, ৩১ মে ২০২৬

১২ দিনেও মেলেনি পরিবারের সন্ধান, বাড়ি ফিরতে চান নিকেশ ঘোষ

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে অজ্ঞাত পরিচয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নিকেশ ঘোষ (আনুমানিক ৩৫)। নাম-পরিচয়ের কিছু তথ্য জানা গেলেও গত ১২ দিনেও তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও হাসপাতালের নির্জন জীবন আর ভালো লাগছে না তাঁর। এখন তিনি ফিরতে চান নিজের বাড়িতে।

শনিবার (৩১ মে) বিকেলে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অর্থোপেডিক্স বিভাগে চিকিৎসাধীন নিকেশ আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ। হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সদের নিবিড় পরিচর্যা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৯ মে বিকেল ৫টার দিকে বাম পায়ে দীর্ঘদিনের গুরুতর ক্ষত ও পচনজনিত সমস্যাসহ তাঁকে অর্থোপেডিক্স বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত তাঁর চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা দিচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর।

তাঁর পরিচয় শনাক্তের জন্য গত ২৭ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাঁর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যভাণ্ডারে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিকেশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিছু পরিচয় পাওয়া গেলেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমদিকে তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠার পর তিনি জানান, তাঁর পিতার নাম নিত্যন্দ ঘোষ এবং মাতার নাম সুপ্রভা ঘোষ। তাঁদের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার আইরিতলা গ্রামে হতে পারে। তিনি আরও জানান, তাঁদের পরিবারে তিন ভাই ও দুই বোন রয়েছেন। তিনি অবিবাহিত এবং দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নেই বলেও দাবি করেন। তবে এর বাইরে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য দিতে না পারায় তাঁর প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিকেশের ভাষ্যমতে, গত ১৪ মে তিনি হবিগঞ্জ থেকে পারাবত ট্রেনে ঢাকায় যান। সেখানে তাঁর কাছে থাকা প্রায় ৩৪ হাজার টাকা ছিনতাই হয়। পরে নানা দুর্ভোগ পোহানোর পর ১৯ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, নিকেশ দীর্ঘদিন ধরে আখাউড়ার খরমপুর মাজারসহ সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন মাজারে ঘুরে বেড়াতেন। প্রায় সাত থেকে আট বছর ধরে তাঁর পায়ে ঘা ও পচনজনিত সমস্যা রয়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার অভাব, অবহেলা এবং স্বজনদের অনুপস্থিতির কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “গত ১২ দিন ধরে নিকেশের চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর সেবা দিচ্ছেন। বাতিঘরের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “নিকেশ লিচু, আম ও এক জোড়া জুতার আবদার করেছিলেন। আমরা তা পূরণ করেছি। এখন তাঁর একটাই চাওয়া, বাড়ি ফিরে যাওয়া। কিন্তু পরিবারের সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি জটিল হয়ে পড়েছে। আমরা তাঁকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

নিকেশের পরিবারের সন্ধানে গত ২৬ মে রাতে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, “হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা নিকেশের নিয়মিত দেখভাল করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর অজ্ঞাত ও অসহায় রোগীদের বিষয়ে আমাদের অবহিত করে এবং মানবিকভাবে তাদের পাশে থাকে। হাসপাতাল থেকেও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ডায়েট সরবরাহ করা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, “নিকেশ নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে জানতে পেরেছি। তাঁর পরিবারের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের খোঁজে পুলিশ কাজ করছে।”

ঢাকা এক্সপ্রেস /ইউকে

আরও পড়ুন