শিরোনাম
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২:২৩, ২৩ জুলাই ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
ভোলার বোরহানউদ্দিনে নিজ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনা ইউপি মেম্বারের মাধ্যমে টাকা দিয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন (৫৫)। এতে রাজি না হওয়ায় শিশুটির স্বজনদের মারধর করেন বাচ্চু মেম্বার ও তার সঙ্গীরা।
মারধরের অভিযোগে মো. বাচ্চুকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার মহিউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি টবগী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছেলামত মাঝির ছেলে। অপর গ্রেফতারকৃত বাচ্চু হাসাননগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও মো. রফিকের ছেলে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সকালে ভুক্তভোগী শিশুর দাদা বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিনকে প্রধান আসামি এবং বাচ্চু মেম্বারকে সহযোগী আসামি করে বোরহানউদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই দুপুরে স্কুল ছুটির পর ওই ছাত্রী বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তখন প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন কৌশলে তাকে বিদ্যালয়ের ভবনের তৃতীয় তলার একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন।
ঘটনাটি কাউকে না জানাতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ছাত্রীর হাতে ২০ টাকা গুজে দিয়ে বিদায় করেন তিনি।
শিশুটির অস্বাভাবিক চলাফেরা দেখে স্বজনদের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে সত্য ঘটনা প্রকাশ করে।
স্বজনরা প্রথমে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চুকে জানালে তিনি বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।
অভিযোগ উঠে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে বাচ্চু মেম্বার ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালান। এতে রাজি না হওয়ায় শিশুটির স্বজনদের মারধর করেন বাচ্চু মেম্বার ও তার সঙ্গীরা।
ভুক্তভোগী শিশু জানায়, স্কুল ছুটির পর মহিউদ্দিন স্যার তিন তলায় ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে। আমি চিৎকার করতে গেলে মুখ চেপে ধরে। পরে ২০ টাকা দিয়ে বলে, কাউকে বললে মেরে ফেলব।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানা ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, গ্রেফতারকৃত মহিউদ্দিন ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি এবং বাচ্চু ধামাচাপা দেয়া ও মারধরের অভিযোগের সহযোগী আসামি।
বুধবার বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস