শিরোনাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০:৫৯, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মাহিদা নামে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামের বাড়ির পাশের একটি ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মাহিদা ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোজাম্মেল মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবারের অভিযোগ, মাহিদাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন তার চাচা জাহিদুল। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্ত জাহিদুলের বাড়ি ভাঙচুর করেন এবং তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানান, দুপুরের দিকে মাহিদার মা মনিরা বেগম ডাক্তার দেখানোর জন্য উপজেলা শহরে যান। এ সময় তিনি তার দুই মেয়েকে ঘরে রেখে যান। পরে মাহিদার চাচা জাহিদুল ভাতিজি মাহিদাকে পানি খাওয়ার কথা বলে একটি বসতঘরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরে মাহিদার মা মনিরা বেগম মেয়ের খোঁজ না পেয়ে সন্দেহবশত জাহিদুলের ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি মেয়েকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার আত্মচিৎকারে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে অচেতন মাহিদাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মাহিদার মা মনিরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। মাহিদা আমার মেঝো মেয়ে। আমি আমার ছোট ছেলেকে ডাক্তার দেখানোর জন্য পাশের একটি বাজারে গিয়েছিলাম। বাসায় ফিরে মাহিদাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে কাপড় আনতে গিয়ে জাহিদুলের ঘরে গিয়ে তাকে মাহিদার কথা জিজ্ঞেস করি। এতে সে অসংলগ্ন আচরণ শুরু করে। পরে সন্দেহ হলে তার পাশের একটি ঘর থেকে মাহিদার লাশ পাওয়া যায়। আমি এই ঘটনার বিচার চাই। সরকার যেন জাহিদুলের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করে।”
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন জানান, নিহত শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুটির শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের পর ধর্ষণ ও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত জাহিদুলকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে সে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস