শিরোনাম
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২:২০, ১ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
বিশ্বের ১৬৭টি দেশে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ কর্মী কর্মরত রয়েছেন, যারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। নীলফামারী জেলা থেকে বছরে প্রায় তিন লাখ কর্মী বিদেশে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও বর্তমানে যাচ্ছেন প্রায় ৩৫ হাজার।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নীলফামারী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) আয়োজিত ‘দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপদ অভিবাসন’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।
টিটিসির সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন টিটিসি নীলফামারীর অধ্যক্ষ মো. মাসুদ রানা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফজলুর রহমান মোহসিন। বক্তব্য দেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল হক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নীলফামারী শাখার ব্যবস্থাপক নুর জাহান বেগম ও প্রবাসী সবুজ খন্দকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন টিটিসির ইন্সট্রাক্টর (মেকানিক্যাল) শরিফুল ইসলাম।
সেমিনারে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল হক জানান, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশ যাওয়ার জন্য নীলফামারী থেকে ১ হাজার ২৯৫ জন নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে নারী রয়েছেন ২০০ জন।
তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশ যাওয়ার বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। তবে এসব সুযোগের বাইরে গিয়ে দালালের মাধ্যমে বিদেশ যেতে গিয়ে অনেকে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের ৩৫টি অভিযোগ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৫টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার পর কোনো প্রবাসী হয়রানির শিকার হলে, কাজ না পেলে বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিযোগ এলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
টিটিসির অধ্যক্ষ মো. মাসুদ রানা বলেন, দক্ষতা অর্জনের জন্য টিটিসিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষা শিক্ষারও ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। দক্ষ হয়ে বৈধ পথে বিদেশ গেলে কর্মীরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহও বাড়বে।
তিনি বলেন, দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদেশ না গিয়ে সরকারি নিয়ম মেনে বিদেশে যেতে হবে। এতে কর্মী ও তার পরিবার অনিশ্চয়তা ও প্রতারণার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নীলফামারীতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর শাখা অফিস স্থাপনের সুযোগ রয়েছে কি না, বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানানো হবে। এতে বিদেশগামীদের বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার সুযোগ আরও সহজ হতে পারে।
টিটিসি সূত্র জানায়, বিদেশগমনেচ্ছু ১৩০ জনকে নিয়ে বর্তমানে তিন দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ চলছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নেবেন। প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ১০০ জন পুরুষ ও ৩০ জন নারী রয়েছেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস