শিরোনাম
গবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩:০৬, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
ক্লাসরুমে বাংলা সাহিত্যের জটিল আলোচনা কিংবা তপ্ত দুপুরের ফুটবল মাঠ, সবখানেই সেরাদের কাতারে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি খেলার মাঠেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে বিভাগটির নারী ও পুরুষ ফুটবল দল। আন্তঃবিভাগ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দুই দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে এসেছে এই দ্বৈত সাফল্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত অ্যাকাডেমিক জীবনের বাইরে খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে তোলে এক মেলবন্ধন। মাঠের প্রতিযোগিতায় থাকে জয়ের আকাঙ্ক্ষা, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। একই বিভাগের ছেলে ও মেয়ে, দুই দলই যখন সেই লড়াইয়ে সাফল্যের দেখা পায়, তখন আনন্দ হয়ে ওঠে দ্বিগুণ।
বাংলা বিভাগের এই দ্বৈত জয় শুধু দুটি দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প নয়; এটি দলীয় প্রচেষ্টা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত অর্জনেরও গল্প। প্রতিযোগিতার মাঠে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ, সতীর্থদের প্রতি আস্থা এবং জয়ের লক্ষ্যে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই একটি দলকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেয়।
সাহিত্যচর্চার পরিচয়ের পাশাপাশি খেলার মাঠেও নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে বাংলা বিভাগ। আন্তঃবিভাগ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দুই দলের এই সাফল্য তাই একটি বিভাগের গণ্ডি পেরিয়ে পরিণত হয়েছে সম্মিলিত অর্জনের আনন্দে। মাঠের লড়াই শেষ হলেও এমন জয়ের স্মৃতি শিক্ষার্থীদের মনে দীর্ঘদিন অমলিন থাকবে।
বাংলা বিভাগের নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক বলেন, ‘বাংলা বিভাগের মেয়েরা এবার প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এটি শুধু অর্জন নয়, একটি রেকর্ড। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শুনেছিলাম, বাংলা বিভাগের মেয়েরা কখনো ট্রফি জিততে পারেনি। তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল, একদিন ট্রফি জিতব। আল্লাহর রহমতে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমাদের দলের পারস্পরিক বোঝাপড়া, গতি ও সহযোগিতাই এই জয়ের মূল শক্তি। পাশাপাশি বিভাগের শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। এই সাফল্য ধরে রাখতে চাই।’
দল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক সাবরিনা নাসরিন বলেন, ‘আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলা বিভাগের ছেলে ও মেয়ে, দুই দলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ করে মেয়েদের প্রথমবার ফাইনালে উঠে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের জন্য নতুন অর্জন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, আগ্রহ, মনোবল এবং দুই সহপাঠী কোচের প্রশিক্ষণ এই সাফল্য এনে দিয়েছে। পরিবারের সহযোগিতাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, নারী শিক্ষার্থীদের সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশেরও একটি মাধ্যম। এমন আয়োজনের জন্য গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আশা করি, ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে।’
স্বপ্ন ও অর্জনের প্রত্যয় নিয়ে শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের এই অদম্য ছুটে চলা জন্ম দিচ্ছে নতুন স্বপ্ন ও নতুন অর্জনের। তাদের বিশ্বাস, ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রম একজন শিক্ষার্থীকে স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে নেয়। সেই প্রচেষ্টা তাদের তৈরি করে আগামীর জন্য, দেশের জন্য, মানুষের জন্য।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস