শিরোনাম
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:৫৩, ৮ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণী বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আনলেও স্বামীর পরিচয় এখনো গোপন রেখেছেন। বিয়ের ছবি প্রকাশের সময় স্বামীর মুখ ফুল দিয়ে ঢেকে রাখেন তিনি। তবে তার স্বামীর পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা।
নেটিজেনদের একাংশের দাবি, পারশার স্বামী নির্বাসিত ব্লগার ও অধিকারকর্মী আসাদ নূর। যদিও এ বিষয়ে পারশা কিংবা আসাদ নূর কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।
পারশার বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে গত ২৭ অক্টোবর। এর আগের দিন, ২৬ অক্টোবর দেশের বাইরে তাদের আক্দ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান এই সংগীতশিল্পী। বিয়ের ছবি প্রকাশ করে স্বামীর মুখ ফুল দিয়ে ঢেকে রাখেন তিনি। একই সঙ্গে স্বামীর পরিচয় জানতে চেয়ে তাকে কিংবা তার পরিবারকে বিব্রত না করার অনুরোধ জানান।
সেদিন ফেসবুকে পারশা লেখেন, ‘চিরকুমারী সংঘ থেকে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ। বেগানা নারীদের কুদৃষ্টি থেকে হেফাজতের স্বার্থে বরের চেহারা গোপন রাখা হলো। ব্যাটামানুষের রূপ লাবণ্য ও যৌবন জনসমক্ষে প্রদর্শন করে সমাজে ফিতনা ছড়ানোর পক্ষপাতী নই। অতএব, বরের পরিচয় জানতে চেয়ে আমাকে বা আমার পরিবারকে বিব্রত করবেন না।’
এরপরও স্বামীর পরিচয় নিয়ে কৌতূহল কমেনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি, পোশাক ও পটভূমির মিল খুঁজে বের করে নতুন নতুন দাবি সামনে আনছেন নেটিজেনরা।
গত ৭ নভেম্বর শনিবার রাতে ফেসবুকে স্বামীর সঙ্গে আরেকটি ছবি প্রকাশ করেন পারশা। ছবিতে তার পরনে ছিল শাড়ি। তবে স্বামীর মুখ পদ্মফুল দিয়ে ঢেকে রাখেন তিনি। ছবির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে পারশা লেখেন, ‘পুরুষ মানুষ ললিপপের ন্যায়, যার মোড়ক উন্মুক্ত থাকলে পিঁপড়ার আগমন অনিবার্য। খোসা ছাড়ানো কলায় মাছি বসবে, অনাবৃত মিষ্টিতে পোকামাকড়ের উপদ্রব ঘটবে, এটাই প্রকৃতির স্বাভাবিক বিধান। এমতাবস্থায় পিঁপড়া কিংবা মাছির চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা নিতান্তই অযৌক্তিক। ভালো ঘরের পুরুষেরা রূপ যৌবন দেখিয়ে বেড়ায় না। স্বামীর পর্দা তার স্ত্রীর সম্মান।’
পারশার এই পোস্টের পর আসাদ নূরের সঙ্গে তার বিয়ের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। নেটিজেনদের দাবি, আসাদ নূর গত ২১ অক্টোবর নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পাঞ্জাবি পরা একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ওই ছবিতে তার পাশে একটি লাল শাড়ির আঁচল দেখা যায়। অন্যদিকে, ৭ নভেম্বর পারশার প্রকাশ করা ছবিতে তার পরনের শাড়ির আঁচলের সঙ্গে আগের ছবিতে দেখা লাল আঁচলের মিল রয়েছে বলে দাবি করছেন অনেকে।
শুধু শাড়ির আঁচল নয়, দুই ছবিতে পুরুষের পোশাকেও মিল খুঁজে পেয়েছেন নেটিজেনরা। তাদের পর্যবেক্ষণ, আসাদ নূরের ২১ অক্টোবরের ছবিতে তার পরনে যে পাঞ্জাবি ছিল, পারশার স্বামীর পরনের পাঞ্জাবির সঙ্গেও সেটির মিল রয়েছে। এসব মিলকে সম্ভাব্য সূত্র হিসেবে দেখছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ।
এ ছাড়া আসাদ নূর ও পারশা দুজনই ইনস্টাগ্রামে একে অন্যকে অনুসরণ করেন। তাদের বিভিন্ন ছবির পটভূমি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। নেটিজেনদের কেউ কেউ আসাদ নূরের একটি ছবির পেছনের দৃশ্যের সঙ্গে পারশার বিয়ের দিনের ছবির পটভূমির মিল পাওয়ার দাবি করেছেন। দুজনের কলকাতায় অবস্থানের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
আরেকটি বিষয় নিয়েও চর্চা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দাবি, গত মে মাসে আসাদ নূর তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পারশার চোখের মতো দেখতে একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন। তবে ছবিটি বর্তমানে আর দেখা যাচ্ছে না। সেটি আসলেই পারশার চোখের ছবি ছিল কি না, কিংবা পরে সরিয়ে ফেলা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এভাবে পোশাক, শাড়ির আঁচল, ছবির পটভূমি এবং ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে অনুসরণ করার মতো বিষয় সামনে এনে নেটিজেনদের একাংশ আসাদ নূরকেই পারশার স্বামী বলে ধারণা করছেন। কেউ কেউ এ দাবির পক্ষে একাধিক সূত্রের কথা উল্লেখ করে প্রায় নিশ্চিত হওয়ার কথাও বলছেন।
তবে এসব মিল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পর্যবেক্ষণ দিয়ে কারও বৈবাহিক সম্পর্ক নিশ্চিত করা যায় না। পারশা তার স্বামীর পরিচয় প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আসাদ নূরের সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কারও পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জল্পনা ও আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।