ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

৬ কার্তিক ১৪৩৩, ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

উড়ন্ত বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারাল পিএসজি

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:৪২, ২১ অক্টোবর ২০২৬

উড়ন্ত বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারাল পিএসজি

ছবি: সংগৃহীত

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার জয়রথ থামাল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। দুইবার সমতায় ফিরেও শেষ রক্ষা হয়নি স্প্যানিশ ক্লাবটির। শেষ দিকে আরও দুই গোল করে বার্সেলোনাকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

মঙ্গলবার রাতে প্যারিসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে পিএসজি। প্রথমার্ধে দাপট দেখিয়ে এগিয়ে যায় তারা। বিরতির পর ঘুরে দাঁড়িয়ে দুইবার সমতা ফেরায় বার্সেলোনা। তবে শেষ দিকে ভিতিনিয়া ও ফাবিয়ান রুইসের গোলে জয় নিশ্চিত করে লুইস এনরিকের দল।

চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর প্রথম হারের স্বাদ পেল বার্সেলোনা। মৌসুমের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দলটির জন্য এই ম্যাচকে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

দেজিরে দুয়ের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমতা ফেরান শাভি এস্পার্ত। পরে লুকাস এরনঁদেজ পিএসজিকে আবার এগিয়ে দিলে দুর্দান্ত গোলে বার্সেলোনাকে ম্যাচে ফেরান লামিন ইয়ামাল। কিন্তু এরপর পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে সফরকারীরা। জালের দেখা পান ভিতিনিয়া ও ফাবিয়ান রুইস।

গোলের জন্য পুরো ম্যাচে ২২টি শট নেয় পিএসজি, যার ১৫টি ছিল লক্ষ্যে। প্রথমার্ধে আটটিসহ মোট ১০টি সেভ করেন বার্সেলোনার গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া। অন্যদিকে বল দখলে সামান্য এগিয়ে থাকা বার্সেলোনা ১৮টি শট নেয়, যার পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন ম্যাচে শতভাগ জয় নিয়ে ৯ পয়েন্টে শীর্ষে রয়েছে পিএসজি। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থানে লিভারপুল। অন্যদিকে আরও সাতটি দলের সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে বার্সেলোনা।

চোটের কারণে দুই ডিফেন্ডার জুল কুন্দে ও এরিক গার্সিয়াকে পায়নি বার্সেলোনা। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই নিজেদের বক্সের বাইরে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপদ ডেকে আনেন পেদ্রি। সেখান থেকে খাভিচা কাভারাৎস্খেলিয়ার নিচু শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল উঁচুতে তুলে মারেন উসমান দেম্বেলে, যদিও তিনি অফসাইডে ছিলেন।

পঞ্চম মিনিটে বক্সে ঢুকে দেম্বেলের নেওয়া নিচু শট ঠেকিয়ে দেন জোয়ান গার্সিয়া। কয়েক সেকেন্ড পর দেজিরে দুয়ের শটও আটকে দেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ গোলরক্ষক।

সপ্তম মিনিটে প্রথমবার পিএসজির বক্সে ঢোকার সুযোগ পায় বার্সেলোনা। তবে পেদ্রির শট প্রতিহত হয় রক্ষণে। তিন মিনিট পর রাফিনিয়ার ক্রস থেকে পাউ কুবার্সির হেড পাসে দূরের পোস্টে প্রয়োজনীয় টোকা দিতে পারেননি অ্যান্থনি গর্ডন।

১৯তম মিনিটে চোটের ধাক্কা খায় পিএসজি। পায়ে টান লাগায় মাঠ ছাড়েন দেম্বেলে। তার জায়গায় নামেন বার্সেলোনার সাবেক খেলোয়াড় ফেররান তরেস।

২৫তম মিনিটে ওয়ান-অন-ওয়ানে তরেসের শট ঠেকিয়ে বার্সেলোনাকে রক্ষা করেন গার্সিয়া। পরের মিনিটেই গোড়ালির সমস্যায় মাঠ ছাড়েন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড দানি ওলমো।

২৯তম মিনিটে গার্সিয়ার দুর্দান্ত জোড়া সেভে আবারও রক্ষা পায় বার্সেলোনা। ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত এগিয়ে ফাবিয়ান রুইস বল বাড়ান কাছের পোস্টে। সেখানে স্লাইড করে প্রথম স্পর্শেই শট নেন তরেস, কিন্তু তা ফিরিয়ে দেন গার্সিয়া। ফিরতি বল পেয়ে রুইসের নেওয়া শটও ঠেকিয়ে দেন তিনি।

৩৮তম মিনিটে আবার বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপদে পড়ে বার্সেলোনা। ইয়ামালের কাছ থেকে বল পেয়ে তা প্রতিপক্ষের জুয়াও নেভ্সের মাথায় লাগে। পরে সতীর্থের কাছ থেকে বল পেয়ে কুবার্সির বাধা এড়িয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে পিএসজিকে এগিয়ে দেন দুয়ে।

দুই মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুযোগ পায় বার্সেলোনা। মাঝমাঠ থেকে পেদ্রির বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন দানি ওলমোর বদলি হিসেবে নামা ফের্মিন লোপেস। আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে রুখে দেন মাতভেই সাফানভ।

ফিরতি বল ছয় গজ বক্সে উইলিয়ান পাচো হেডে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় লোপেসের বুট গিয়ে লাগে এই সেন্টার-ব্যাকের মুখে। বেশ কিছুক্ষণ মাঠে শুয়ে থাকেন তিনি।

প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটেও দুর্দান্ত সেভ করেন গার্সিয়া। বক্সের বাইরে থেকে কাভারাৎস্খেলিয়ার জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন তিনি।

মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ ম্যাচে এই প্রথম পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।

দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে কাছ থেকে ওয়ান-অন-ওয়ানে আশরাফ হাকিমির প্রচেষ্টা পা দিয়ে ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি গার্সিয়া।

৫৫তম মিনিটে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। লোপেসের পাস ধরে বক্সে ঢুকে কাছের পোস্ট দিয়ে জোরালো শটে গোল করেন এস্পার্ত। গোলরক্ষক বলে হাত ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেননি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারের এটিই প্রথম গোল।

দুই মিনিট পর আবার সুযোগ পায় বার্সেলোনা। তবে বক্সে ঢুকে রাফিনিয়ার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন বার্সেলোনা কোচ। রাফিনিয়া, পেদ্রি ও মার্ক বের্নালকে তুলে কারিম আডেইয়েমি, গাভি ও রদ্রিকে মাঠে নামান তিনি।

অন্যদিকে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন কাভারাৎস্খেলিয়া।

মাঠে নামার দুই মিনিটের মধ্যেই সুযোগ পেয়ে যান গাভি। প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ থাকা ইয়ামালের পাস থেকে নেওয়া তার শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।

৭১তম মিনিটে পিএসজিকে আবার এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ হারান তরেস। ডান দিক থেকে হাকিমির পাস পেয়ে কাছ থেকে নেওয়া তার শট পোস্টের বাইরের দিকে লাগে। এরপর কর্নার থেকে জোরালো হেডে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন লুকাস এরনঁদেজ।

জবাব দিতে বেশি সময় নেয়নি বার্সেলোনা। ৭৯তম মিনিটে দুর্দান্ত গোলে ২-২ সমতা ফেরান ইয়ামাল। পিএসজির অর্ধে ওয়াহেন জাইয়ের এমেরি হেডে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করেন। সেই সুযোগে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান দিক দিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে পড়েন ইয়ামাল। এরপর কঠিন কোণ থেকে বাঁ পায়ের শটে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।

তবে বার্সেলোনার স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দুই মিনিট পরই আবার এগিয়ে যায় পিএসজি। প্রতিপক্ষের ক্লিয়ার করা বল বুক দিয়ে নামিয়ে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে ডান পায়ের হাফ ভলিতে জোরালো শটে গোল করেন ভিতিনিয়া।

৮৬তম মিনিটে পিএসজির জয় প্রায় নিশ্চিত করেন রুইস। ডান দিক থেকে হাকিমির বাড়ানো বলে খুব বেশি জোর না থাকলেও দূরের পোস্টে ছুটে গিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান স্প্যানিশ এই ফুটবলার।

এই হারে বার্সেলোনার টানা ১১ জয়ের ধারায় ছেদ পড়ল। আগামী রোববার লা লিগায় মৌসুমের প্রথম ক্লাসিকোয় রেয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে দলটি। গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচের আগে পিএসজির কাছে হার তাদের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন