ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

মামুনের মাথার খুলি ফ্রিজে, লাইফ সাপোর্টে সায়েম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬:১৭, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৬:৩৬, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মামুনের মাথার খুলি ফ্রিজে, লাইফ সাপোর্টে সায়েম

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মামুন মিয়া—পরিবারের স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে প্রবেশ করবেন, সংসারের হাল ধরবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। সহিংসতার মধ্যে রামদার কোপে গুরুতর আহত মামুনের মাথার খুলি ফেটে গেছে। চিকিৎসকরা খুলির একাংশ কেটে আলাদা করে ফ্রিজে রেখেছেন। মাথা মোড়ানো হয়েছে সাদা ব্যান্ডেজে, তাতে কালো কালি দিয়ে লেখা—‘হাড় নেই, চাপ দেবেন না।’

মামুনের ভাই মাসুদ রানা, যিনি টাঙ্গাইলের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ভাইয়ের শয্যার পাশে বসে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, মামুন এখনো আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছে। কেবিনে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু ডাক্তাররা বলছেন সুস্থ হতে অনেক সময় লাগবে। সুস্থ হলেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরা অনিশ্চিত।

অন্যদিকে, একই ঘটনার আরেক শিকার ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েম। অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র তিনি। রবিবার শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। জরুরি অস্ত্রোপচারের পর চার দিন কেটে গেছে, কিন্তু এখনও জ্ঞান ফেরেনি তার। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরের পার্কভিউ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে আছেন।

সায়েমের বাবা মোহাম্মদ আমির হোসেন ছুটে এসেছেন বগুড়া থেকে। হাসপাতালের করিডোরেই রাত কাটাচ্ছেন। কণ্ঠ ভারী করে তিনি বলেন, ছেলেকে সব সময় বলতাম, মারামারিতে জড়াস না। সেদিনও সে শুধু আহত বন্ধুদের হাসপাতালে নিতে গিয়েছিল। কিছুক্ষণ পর খবর এলো, সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে। মানুষ কীভাবে আরেক মানুষকে এভাবে কোপাতে পারে?

পার্কভিউ হাসপাতালের স্পেশালাইজড ইউনিটের ইনচার্জ ডা. সিরাজুল মোস্তফা জানান, সায়েমের খুলির ভেতরের অংশ ও রক্তনালী ছিঁড়ে গেছে। এখনও জ্ঞান ফেরেনি, তবে রক্তচাপে সামান্য উন্নতি হয়েছে। তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মামুনের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, খুলির অংশ ফ্রিজে রাখা হয়েছে। যদি তিনি সুস্থ থাকেন, দুই থেকে আড়াই মাস পর তা পুনঃস্থাপন করা হবে। তবে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় এক ছাত্রীকে দারোয়ান হাত তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে নামেন। সেই আন্দোলন দ্রুত গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় ৪০০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও প্রক্টরও ছিলেন। বর্তমানে তিনজন শিক্ষার্থী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে

আরও পড়ুন