ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

বুক ফুলিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করুন: ধর্ম উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯:৩৩, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বুক ফুলিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করুন: ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ‘আপনারা যারা পূজার্থী, তারা সাহসের সঙ্গে বুক ফুলিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করবেন। আপনারা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা পালন করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসন সার্বক্ষণিক নিরপত্তার বিষয়ে খেয়াল রাখবে।’

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর নালাপাড়া সার্বজনীন দুর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৫ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

খালিদ হোসেন জানান, ‘এবার সারা দেশে একটি হটলাইন চালু করা হচ্ছে, যেটির মাধ্যমে কোনো ধরনের অপরাধ উদ্বেগের সৃষ্টি হলে- তা হটলাইনে অবহিত করলে যেন সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন উপস্থিত হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে সুন্দর ও শান্তিতে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সেটিই সরকারের মূল এজেন্ডা।’ এ লক্ষ্যে আগামীকাল (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সারাদেশে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘এই দেশ ছাড়া আমাদের দ্বিতীয় কোনো দেশ নেই, যাদের আছে তাদের এই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা নেই। এই দেশ আমাদের সবার, এখানে সব ধর্মের মানুষ সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য নিয়ে চলব। এটিই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নমুনা। অন্তর্বর্তী সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে।’

সরকারি উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আগের পূজার বরাদ্দ ২ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে এবারে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মন্দির ও একটি পুকুরঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে। ঢাকার খিলক্ষেতে রেলওয়ের জায়গায় মন্দির নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনকালে মন্দির কমপ্লেক্সের পাশে আরেকটি কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীসহ সবার পাশে থাকতে চায়। যারা সাম্প্রদায়িক, তারা কখনো মানবিক হতে পারে না। যারা ছোট মন-মানসিকতার মানুষ, তারা কখনো কারো বন্ধু হতে পারে না। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। আমাদের সবাইকে মিলেমিশে একসঙ্গে থেকে হিংসা-বিদ্বেষ এবং সব ধরনের পরশ্রীকাতরতা পরিহার করে এদেশকে সত্যিকার সোনার বাংলায় পরিণত করতে কাজ করতে হবে। কারণ, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে এদেশে সব ধর্মের মানুষের অবদান অনস্বীকার্য।’

পূজায় যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘পূজার সময় আপনারা স্থানীয় সব মানুষকে সম্পৃক্ত করবেন, যাতে কেউ কোনো অপরাধ করতে চাইলে তাদের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহত করা যায়। পূজায় সাধারণত জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং স্থানীয় বিরোধ থেকে কিছু অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে। যারা পূজামণ্ডপ, মাজার-মন্দির, উপাসনালয়ে হামলা করে সরকারকে কলঙ্কিত করতে চায়; তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। যারা এই সমস্ত অপরাধ করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, আমরা সবাই মিলে তাদের পরাজিত করব।’

দক্ষিণ নালাপাড়া সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লায়ন অসীত বরণ সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সান্তু, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্রী দীপক কুমার পালিত, মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক রিংকু কুমার শর্মা এবং দক্ষিণ নালাপাড়া মন্দির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অনিল পাল।

ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে

আরও পড়ুন