শিরোনাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮:৫০, ১০ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল–এ কোনো পরিচয়হীন লাশ এলে খবর দেওয়া হয় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন–কে। এরপর সংগঠনের সদস্যরা মরদেহ গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফনের সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করেন।
সর্বশেষ দাফন হওয়া অজ্ঞাত ওই যুবক (আনুমানিক বয়স ৩০) রবিবার (৫ এপ্রিল) ভোরে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক–এর বাহাদুরপুর এলাকায় অজ্ঞাত একটি যানবাহনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। দীর্ঘ সময়েও স্বজনদের সন্ধান না মেলায় অবশেষে সংগঠনটির উদ্যোগে তাকে শহরের পূর্ব মেড্ডা তিতাস নদীর পাড়ের বেওয়ারিশ কবরস্থান–এ দাফন করা হয়।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন জানান, করোনাকালে স্বজনদের দাফনে দেখা দেওয়া সংকট নিরসনের লক্ষ্যেই ২০২০ সালে তিনি এই উদ্যোগ শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি ১০–১২ জন সদস্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই সময় থেকেই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বেওয়ারিশ লাশ দাফন ও অজ্ঞাত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে সংগঠনটি।
তিনি জানান, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থায়নে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। হাসপাতাল বা পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ পেলেই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়।
বেওয়ারিশ লাশ দাফনের পাশাপাশি সংগঠনটির উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তদান, অক্সিজেন সেবা এবং অসহায় মানুষের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে কবরস্থানটি নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সেখানে পানি জমে কবর ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে জানান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভায় একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম রকীব উর রাজা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করলেও এ ধরনের নিঃস্বার্থ মানবিক উদ্যোগ আগে দেখেননি। তিনি এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, ট্রেন ও সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে যাওয়া কিংবা পচা-অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া অধিকাংশ মরদেহই বেওয়ারিশ হিসেবে শনাক্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিচয় মিললেও স্বজনরা না এলে সেসব মরদেহ দাফনের দায়িত্বও গ্রহণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর। মানবিকতার এই উদ্যোগে সংগঠনটি ইতোমধ্যেই জেলায় “বেওয়ারিশ লাশের শেষ ঠিকানা” হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে