ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

লংগদুতে সবচেয়ে বড় পুরুষ হাতির মৃত্যু: পাহারায় সঙ্গী হাতি

রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯:২১, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

লংগদুতে সবচেয়ে বড় পুরুষ হাতির মৃত্যু: পাহারায় সঙ্গী হাতি

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও দীর্ঘদিনের সংক্রমণে এলাকার সবচেয়ে বড় একটি পুরুষ হাতির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত হাতিটির পাশে আরেকটি হাতি অবস্থান নেওয়ায় দীর্ঘ সময় পার হলেও বন বিভাগ বা চিকিৎসক দল মরদেহের কাছে পৌঁছাতে পারেনি।

রবিবার সকালে উপজেলার ভাসান্যাদম এলাকায় হাতিটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি)-এর সদস্যরা।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে ইআরটি সদস্য মো. জয়নাল নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে হাতিটিকে খাবার ও ওষুধ খাওয়াতে গেলে সেটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে শুভলং রেঞ্জের বন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

শুভলং রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম নিয়াজি জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করছেন। তবে মৃত হাতিটির পাশে আরেকটি হাতি অবস্থান করায় তারা বা চিকিৎসক দল মরদেহের কাছে যেতে পারছেন না। ফলে ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করাও সম্ভব হচ্ছে না।

বন বিভাগ জানায়, মৃত পুরুষ হাতিটির বয়স ছিল প্রায় ৬০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে এটি সংক্রমণজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল এবং হাতিটি দাঁতবিহীন ছিল। অসুস্থতার কারণে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলহাজারা সাফারি পার্কের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কয়েক দফায় হাতিটিকে চিকিৎসা প্রদান করেন। সর্বশেষ গত ১০ এপ্রিলও বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হয়। নিয়মিতভাবে কলা ও অন্যান্য খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে হাতিটিকে খাওয়ানো হচ্ছিল।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুজ্জামান শাহ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি দুই দফায় হাতিটির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বয়সজনিত জটিলতা ও দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কারণে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারি সার্জনের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিয়ম অনুযায়ী হাতিটির মরদেহ সৎকার করা হবে। বর্তমানে মৃত হাতিটির পাশে থাকা অন্য হাতিটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেটি সরে গেলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে

আরও পড়ুন