ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

রূপগঞ্জে গ্যাস সংকট, অচল ৩ সিএনজি স্টেশন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশ: ০৯:৫৪, ২৮ জুলাই ২০২৬

রূপগঞ্জে গ্যাস সংকট, অচল ৩ সিএনজি স্টেশন

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে তিনটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। একমাত্র চালু থাকা স্টেশনেও গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে একটি গাড়িতে ৫০ টাকার বেশি গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকেরা। এর প্রভাব পড়েছে যাত্রী পরিবহনেও। দীর্ঘ অপেক্ষা, যানবাহনের সংকট ও বাড়তি ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে উপজেলার সাওঘাট এলাকার বিসমিল্লাহ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।

চালকদের অনেকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে অল্প গ্যাস নিয়েই যাত্রী পরিবহনে বের হচ্ছেন। এতে যেমন আয় কমে যাচ্ছে, তেমনি মাঝপথে আবার স্টেশনে ফিরে আসতে হচ্ছে।

উপজেলায় মোট চারটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সাওঘাটে বিসমিল্লাহ সিএনজি ফিলিং স্টেশন সীমিতভাবে চালু রয়েছে। বরপার রংধনু সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন এবং রূপসী এলাকার দুটি স্টেশন গ্যাস সংকটের কারণে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না।

অটোরিকশাচালক জাকির হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মাত্র ৫০ টাকার মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এ গ্যাসে কয়েক কিলোমিটারের বেশি চলা যায় না। ফলে বারবার স্টেশনে ফিরে আসতে হচ্ছে। অনেক সময় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার আগেই গ্যাস শেষ হয়ে যায়।

যাত্রী সামিয়া ইয়াসমিন বলেন, সিএনজি সংকটের কারণে যানবাহন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বেশি ভাড়াও দিতে হচ্ছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোকলেস মিয়া বলেন, গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু পরিবহন খাত নয়, স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সময়মতো পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বন্ধ থাকা দুটি ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পাইপলাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় তারা সেবা দিতে পারছেন না। প্রতিদিন অসংখ্য চালক ও অ্যাম্বুলেন্স গ্যাসের আশায় এসে ফিরে যাচ্ছে। অনেক চালক অসহায় হয়ে কান্নাও করছেন। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।

বিসমিল্লাহ সিএনজি ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, সপ্তাহখানেক ধরে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। শুধু তাদের স্টেশন নয়, বরপা ও রূপসী এলাকার স্টেশনগুলোও একই সমস্যায় পড়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও একই ধরনের সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

গ্যাস সংকটের কারণ জানতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, রূপগঞ্জের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমস্যার সমাধানে কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন