শিরোনাম
গবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১:১৪, ৮ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
ক্লাস, পরীক্ষা আর অ্যাসাইনমেন্টের চাপের মাঝেও বিকেল হলে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) শিক্ষার্থীরা ফিরে যান মাঠে। কেউ শখে, কেউ সুস্থতার খোঁজে, আবার কেউ ছোটবেলার স্মৃতি ফিরে পেতে। আর সেই গল্পই লিখেছেন গবি শিক্ষার্থী জান্নাতুল লামিশা।
ছোটবেলার স্মৃতিতে ফিরে যাওয়া
একজন শিক্ষার্থীর সকাল শুরু হয় আজ কী খাবেন, সেই চিন্তা নিয়ে। সময়ের অভাবে হয়তো খালি পেটেই বসতে হয় শ্রেণিকক্ষে। একের পর এক ক্লাস শেষে যখন ক্লান্ত শরীর একটু বিশ্রাম চায়, তখন মন খুঁজে ফেরে ছোটবেলার সেই দিনগুলো—ধুলোমাখা শরীর, কাদামাখা পা আর বিকেলজুড়ে খেলাধুলায় মেতে থাকার সময়।
কংক্রিটের এই ব্যস্ত জীবনে একটু প্রশান্তি খুঁজতেই যেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে ফিরে আসেন মাঠে। তারা কেউ পেশাদার খেলোয়াড় নন। কেউ আসেন নিজের শখ পূরণ করতে, কেউবা শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখতে। আবার কারও কাছে মাঠে কাটানো এই সময়টুকু সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে নিজের মতো করে বেঁচে থাকার উপলক্ষ।
বিকেল হলেই জমে ওঠে মাঠ
ঢাকার অদূরে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ একরের ক্যাম্পাসে বিকেল নামতেই দেখা মেলে এমন দৃশ্যের। দিনের ব্যস্ততা শেষে সবুজ মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। কেউ ফুটবল নিয়ে মাঠে নামেন, কেউ আবার খেলার সঙ্গী খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে শুরু হয় খেলা।
মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে দৌড়ঝাঁপ, গোলের চেষ্টা আর বন্ধুদের হাসি-ঠাট্টা। খেলার মাঠে তখন শিক্ষার্থীদের পরিচয় বদলে যায়। কেউ হন দলের অধিনায়ক, কেউ গোলরক্ষক, আবার কেউ বল নিয়ে প্রতিপক্ষের সীমানায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। গোল হলে আনন্দের উচ্ছ্বাস, গোল মিস হলে চলে বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটি। কখনো একজনের ভুলে অন্যজনের হাসি, আবার কখনো সতীর্থের ভালো খেলায় সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
ক্লান্তি ভুলে সুস্থতার খোঁজ
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনা, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট ও নানা দায়িত্বের মধ্যে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই কাটে ব্যস্ততায়। দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা কিংবা পড়াশোনার চাপে অনেক সময় একঘেয়েমি তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে খেলাধুলা শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিরও সুযোগ তৈরি করে।
বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে কিছুটা সময় কাটানো, পছন্দের খেলায় অংশ নেওয়া কিংবা খেলা শেষে একসঙ্গে বসে গল্প করা—সবকিছুই প্রতিদিনের রুটিনে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।
মাঠে আসা প্রত্যেকের লক্ষ্য অবশ্য এক নয়। কারও কাছে ফুটবল কেবল শখ, কারও কাছে নিয়মিত শরীরচর্চার অংশ। আবার কেউ হয়তো ছোটবেলার খেলাধুলার স্মৃতিকে নতুন করে ফিরে পেতে চান। পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন না থাকলেও খেলার প্রতি ভালোবাসা তাঁদের মাঠে টেনে আনে।
স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে মাঠের বিকেল
এই মাঠকে ঘিরে শুধু খেলাধুলা নয়, গড়ে উঠছে বন্ধুত্ব, পরিচয় ও অসংখ্য স্মৃতি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের চার বছর হয়তো একসময় শেষ হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরা ছড়িয়ে পড়বেন নিজেদের কর্মজীবন ও ভবিষ্যতের গন্তব্যে। কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো বিকেল, মাঠে দৌড়ে বেড়ানো কিংবা একটি গোলকে ঘিরে তৈরি হওয়া উচ্ছ্বাস স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে দীর্ঘদিন।
৩২ একরের গণ বিশ্ববিদ্যালয় তাই কেবল শ্রেণিকক্ষ, পরীক্ষা আর সনদ অর্জনের জায়গা নয়। এর প্রতিটি কোণে যেমন রয়েছে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও সংগ্রামের গল্প, তেমনি সবুজ মাঠেও জমা হচ্ছে আনন্দের অসংখ্য মুহূর্ত। ব্যস্ততার ভিড়ে এই মাঠই যেন তাঁদের একটু থামার, প্রাণ খুলে হাসার এবং ছোটবেলার দিনগুলোতে ফিরে যাওয়ার এক টুকরো স্বস্তি।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস