শিরোনাম
জাককানইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩:১৪, ৮ নভেম্বর ২০২৬
উম্মে ফারহানা। ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) দোলনচাঁপা হলের প্রভোস্ট উম্মে ফারহানার প্রশাসনিক ভূমিকা, দায়িত্ব পালন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি হলের গ্যাসের চুলা থেকে অগ্নিকাণ্ডে এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর প্রভোস্টের বক্তব্য ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথন ঘিরে এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। তার দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ও পদে বহাল থাকার উপযুক্ততা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রভোস্ট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলি না।’ ফোন রেকর্ডিং নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী।’ একই সঙ্গে তার বক্তব্য প্রকাশ না করার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
গ্যাসলাইনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রভোস্টের বক্তব্যেও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাসলাইন স্থাপনের এক বছরও হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ ও অবকাঠামোর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এটি মেরামতের বিষয় নয়; ব্যবহারের সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ তিনি আরও জানান, ডাইনিং পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সম্প্রতি হলে গ্যাসের ব্যবস্থা করা হয়।
তবে গ্যাসলাইন স্থাপনের আগে কারিগরি পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে গ্যাসলাইন স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।
এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি হলের ৪০৬ নম্বর কক্ষে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জুনিয়র রুমমেটকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে প্রভোস্ট বলেন, ‘আমি অনেক কিছু জানি, যা আপনাদের বলব না। আপনাদের সাংবাদিকগিরি একধরনের ফাতরামি করা ছাড়া কিছুই না।’ একই ঘটনায় অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করে প্রয়োজনে তার আবাসিক আসন বাতিলের হুমকি দেওয়ার কথাও ওই কথোপকথনে শোনা গেছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযোগের পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও সত্যতা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা সরাসরি বক্তব্য দিতে রাজি হননি। প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া এবং আবাসিক সুবিধা হারানোর আশঙ্কায় তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি। ফলে তাদের পরিচয় প্রকাশ করে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাসলাইনের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনার কারণ, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং পূর্বের নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে প্রভোস্টের প্রশাসনিক আচরণ ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করে পদে বহাল থাকার উপযুক্ততা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে গ্যাসলাইন স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা যাচাই, পুরো হলের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস