ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

সুস্থ থাকার জন্য ইসলামের নির্দেশনা

প্রকাশ: ১৪:১৩, ১২ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৪:২১, ১২ আগস্ট ২০২৬

সুস্থ থাকার জন্য ইসলামের নির্দেশনা

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

সুস্থতা মানুষের জীবনের অন্যতম বড় নিয়ামত। সুস্থ শরীর মানুষকে ইবাদত, কাজকর্ম ও দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে। ইসলাম তাই শুধু আত্মিক সুস্থতার কথা বলে না; শারীরিক সুস্থতা, পরিচ্ছন্নতা, পরিমিত খাবার ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছে।

পরিমিত খাবার খাওয়ার নির্দেশ

সুস্থ থাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো পরিমিত খাবার খাওয়া। অতিরিক্ত খাওয়াকে ইসলাম নিরুৎসাহিত করেছে।

কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না।” —সূরা আল-আরাফ: ৩১

অর্থাৎ খাবার গ্রহণে ভারসাম্য রাখা জরুরি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া শরীরের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অপচয়ও ইসলামের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

ইসলামী জীবনযাপনে পরিচ্ছন্নতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নিয়মিত গোসল, শরীর ও পোশাক পরিষ্কার রাখা, দাঁত পরিষ্কার করা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সুস্থ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নবী মুহাম্মদ (সা.) পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার বিষয়ে মুসলমানদের উৎসাহিত করেছেন। ফলে পরিচ্ছন্নতা শুধু সামাজিক শিষ্টাচার নয়, ইসলামী জীবনযাপনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পবিত্রতা ও স্বাস্থ্য

ইসলামে অজু ও গোসলের মতো ইবাদতের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও যুক্ত। নামাজের আগে অজু করার মাধ্যমে শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গ পরিষ্কার করা হয়। নিয়মিত হাত-মুখ ধোয়া ও পরিষ্কার থাকার অভ্যাস ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য রক্ষাতেও সহায়ক।

শরীরের প্রতি দায়িত্ব

ইসলামে শরীরকে অবহেলা করার শিক্ষা নেই। মানুষের শরীর আল্লাহর দেওয়া একটি আমানত। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের শরীরের ক্ষতি করা, ক্ষতিকর অভ্যাসে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা কিংবা অসুস্থ হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় যত্ন না নেওয়া দায়িত্বশীল আচরণ নয়।

নবী (সা.) বলেছেন, “তোমার শরীরেরও তোমার ওপর অধিকার আছে।” —সহিহ বুখারি

এই শিক্ষা সুস্থ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

পরিমিত ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন

ইসলাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়। খাবার, ঘুম, কাজ ও বিশ্রাম—সবকিছুতেই পরিমিতি প্রয়োজন।

শুধু বেশি কাজ করলেই যেমন শরীর ভালো থাকে না, তেমনি অতিরিক্ত অলসতাও সুস্থ জীবনের জন্য উপকারী নয়। কাজের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে।

ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকা

শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর এমন অভ্যাস থেকে দূরে থাকার শিক্ষা ইসলামের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিজের শরীরের ক্ষতি করে এমন কোনো অভ্যাসকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের অংশ বানানো উচিত নয়।

চিকিৎসা গ্রহণেও উৎসাহ

অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়াও ইসলামের শিক্ষার বিরোধী নয়। বরং নবী (সা.) চিকিৎসা গ্রহণের ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন। অর্থাৎ অসুস্থতাকে শুধু ভাগ্যের ওপর ছেড়ে না দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও যত্ন নেওয়া দায়িত্বশীলতার অংশ।

মানসিক শান্তিও গুরুত্বপূর্ণ

সুস্থতা শুধু শরীরের বিষয় নয়। মানসিক প্রশান্তিও মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নামাজ, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির এবং আল্লাহর ওপর ভরসা একজন মানুষের আত্মিক প্রশান্তিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

কোরআনে বলা হয়েছে, “জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।” —সূরা আর-রাদ: ২৮

সুস্থ জীবন, সুন্দর ইবাদত

একজন সুস্থ মানুষ তার দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি ইবাদতেও আরও মনোযোগী হতে পারেন। তাই সুস্থ থাকা শুধু ব্যক্তিগত সুবিধার বিষয় নয়; এটি নিজের দায়িত্ব, পরিবার এবং সমাজের প্রতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

ইসলামের স্বাস্থ্যবোধ মূলত কয়েকটি বিষয়কে সামনে আনে—পরিচ্ছন্নতা, পরিমিত খাবার, শরীরের যত্ন, ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং আত্মিক প্রশান্তি।

অর্থাৎ ইসলাম সুস্থতাকে আলাদা কোনো বিষয় হিসেবে দেখে না। বরং সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের অংশ হিসেবেই সুস্থ থাকার শিক্ষা দেয়।

আরও পড়ুন