শিরোনাম
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১:৩৪, ৮ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা ৩৭ একর বনভূমি দখলমুক্ত করেছে সিলেট বন বিভাগ।
শনিবার অভিযান চালিয়ে দখলে থাকা গরুর খামার ও লেবু বাগান উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি মাছ চাষের জন্য তৈরি আটটি জলাধারের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়। বন বিভাগের এ অভিযানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বনভূমি দখল এবং বনাঞ্চলের ভেতরে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এর আগে লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বনভূমি দখল, অবৈধভাবে কৃষিকাজ ও স্থাপনা নির্মাণ, গাছ কর্তন, বনজ সম্পদ ধ্বংস এবং হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকারের অভিযোগে বন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান। ওই অভিযোগে শুকনাছড়া গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে রইছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ হেক্টর বনভূমি দখলের অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগে বনাঞ্চলের গভীরে বসতবাড়ি নির্মাণ, লেবু বাগান, গরুর খামার এবং একাধিক বড় জলাধার তৈরি করে মাছ চাষের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী শিকার, গাছ কর্তন ও বনজ সম্পদ পাচারের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবং বনভূমি উদ্ধারের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গতকাল লাঠিটিলা বিটের ৩৭ একর বনভূমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রইছ উদ্দিনের দখলে থাকা লেবু বাগান উচ্ছেদ এবং মাছ চাষের জন্য তৈরি আটটি জলাধারের বাঁধ কেটে দেওয়া হয় বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সহকারী বন সংরক্ষক শরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালনা করেন জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদউদ্দিন। এতে নেতৃত্ব দেন লাঠিটিলা বিট কর্মকর্তা সাজন।
লাঠিটিলা বিট কর্মকর্তা সাজন বলেন, দখলকৃত ৩৭ একর বনভূমি এখন তাদের দখলে ফিরে এসেছে। জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদউদ্দিন বলেন, লাঠিটিলা বনের মোট ৩৭ একর বনভূমি উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বনের অন্যান্য অবৈধ দখলও উচ্ছেদ করা হবে।
এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে অভিযুক্ত রইছ উদ্দিন বলেন, ‘আমি লাঠিটিলা বিটের প্রথম সারির ৪ নম্বর ভিলেজারের সন্তান। লাঠিটিলা বনে অনেকেরই অবৈধ দখল রয়েছে। আমি একা কী অপরাধ করেছি? উচ্ছেদে আমি বিচলিত নই। তবে আমার দাবি, লাঠিটিলা বনে কারও যেন কোনো অবৈধ দখল না থাকে।’
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস