ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

‘জামে তিরমিজি’র পূর্ণাঙ্গ ১৭ খণ্ডের ব্যাখ্যাগ্রন্থ প্রকাশ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮:১৩, ৫ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৮:১৭, ৫ আগস্ট ২০২৬

‘জামে তিরমিজি’র পূর্ণাঙ্গ ১৭ খণ্ডের ব্যাখ্যাগ্রন্থ প্রকাশ

মাওলানা আব্দুল মতিন

বাংলাদেশের হাদিস গবেষণায় নতুন সংযোজন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ও জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুল মতিন (হাফিজাহুল্লাহ) রচিত ‘কিফায়াতুল মুগতাযি ফি শারহি জামে তিরমিজি’-এর পূর্ণাঙ্গ ১৭ খণ্ড।

আজ বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের আয়োজনে ‘হাদিস অনুসরণে সালাফের কর্মপন্থা: প্রসঙ্গ জামে তিরমিজি ও কিফায়াতুল মুগতাযি’ শীর্ষক ইলমি সেমিনারে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভারত, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের আলেম, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নোমানি বলেন, ইমাম তিরমিজির গ্রন্থে হাদিসের পাশাপাশি ফকিহদের মতপার্থক্য ও দলিলের বিশ্লেষণ রয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে মাওলানা আব্দুল মতিন সেই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন এবং প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও আধুনিক গবেষণার সমন্বয়ে একটি মানসম্পন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে শায়খুল হাদিস মাওলানা আবুল বাশার বলেন, এই গ্রন্থ হাদিস পাঠদান ও দরসের পদ্ধতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তার মতে, এটি শুধু একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়, বরং হাদিস শিক্ষার একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব ও হাদিস গবেষক মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, তিরমিজি শরিফের বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থ অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি হাদিসের ধারাবাহিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছে এবং সালাফের মানহাজ ও মতভিন্নতার শিষ্টাচার বজায় রেখেছে। তার মতে, এটি হাদিস গবেষণার দীর্ঘদিনের একটি শূন্যতা পূরণ করবে।

গ্রন্থকার মাওলানা আব্দুল মতিন জানান, ২০০১ সালে জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ায় পাঠদানের প্রয়োজন থেকেই তার গবেষণার সূচনা। অর্থসংকটের কারণে প্রয়োজনীয় গ্রন্থ সংগ্রহ করতে না পেরে তিনি লাইব্রেরি থেকে বই এনে নোট তৈরি করতেন। করোনাকালে টানা কয়েক মাস রাত জেগে গবেষণার কাজ এগিয়ে নেন। তিনি বলেন, ‘এই কর্মযজ্ঞকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হিসেবেই দেখছি।’

জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আব্দুল গাফফার বলেন, একটি শব্দের সঠিক ব্যাখ্যা নির্ধারণের জন্যও লেখক শত শত মূল গ্রন্থ পর্যালোচনা করেছেন। ভবিষ্যতে তিরমিজি শরিফ নিয়ে গবেষণায় এই গ্রন্থ গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের পরিচালক শায়খ তাহমিদুল মাওলা জানান, প্রথম চার খণ্ড প্রকাশের পরই দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। পরে আরব বিশ্বের প্রকাশনার মান অনুসরণ করে ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে।

সেমিনারে সৌদি আরবের ড. শায়খ আব্দুল আজিজ আলহাজ, দক্ষিণ আফ্রিকার শায়খ ইসহাক বানা, সিলেটের মুহাদ্দিস মাওলানা শফিকুল হক সুরাইঘাটি এবং ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের শুরা সদস্য শায়খ হাসান মাহমুদ রাজস্থানীসহ দেশ-বিদেশের একাধিক আলেম গ্রন্থটির গবেষণাগত মান ও গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে গবেষণায় উৎসাহ দিতে নির্বাচিত ১০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সেট বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হয়।

প্রকাশনা সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বাংলাদেশের একজন আলেমের রচিত এই পূর্ণাঙ্গ আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রকাশ করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের আলেমদের মতে, হাদিসচর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্যে এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত হবে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন