ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.): জন্ম, শৈশব ও নবুয়তের সূচনা

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫:০১, ২০ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৫:০৩, ২০ আগস্ট ২০২৬

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.): জন্ম, শৈশব ও নবুয়তের সূচনা

ছবি:এআই নির্মিত

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল, মতান্তরে ৯ রবিউল আউয়াল, সোমবার হাতির বছরের বিখ্যাত ঘটনার কিছুদিন পর মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল্লাহ এবং মাতার নাম আমিনা। জন্মের আগেই তিনি পিতৃহারা হন। পরে দাদা আবদুল মুত্তালিব ও চাচা আবু তালেবের আশ্রয়ে বেড়ে ওঠেন।

আল্লাহতায়ালা তাঁকে সমগ্র মানবজাতির জন্য নেয়ামত ও রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি তো আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য কেবল রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ১০৭)

রাসুল (সা.) সোমবার জন্মগ্রহণ করেন। এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তিনি সপ্তাহের ওই দিন সিয়াম পালন করতেন। তাঁকে সোমবার সিয়াম পালনের কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি দিন, যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যেদিন আমার ওপর প্রথম ওহি অবতীর্ণ হয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম)

অর্থাৎ, তিনি সোমবার সিয়াম পালন করে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করতেন।

মহানবী (সা.)-এর জন্ম ও নবুয়তের সূচনা

সিরাত ও হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় মহানবী (সা.)-এর জন্মের নানা অলৌকিক নিদর্শনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর মুহতারামা জননী বিবি আমিনা বলেন, মহানবী (সা.) তাঁর গর্ভে স্থিতি লাভ করার পর তাঁকে স্বপ্নে সুসংবাদ দেওয়া হয়। বলা হয়, তাঁর গর্ভে যে সন্তান রয়েছে, তিনি এই উম্মতের সরদার। তিনি ভূমিষ্ঠ হলে তাঁর নাম মুহাম্মদ রাখতে বলা হয়। (সিরাতে ইবনে হিশাম)

বিবি আমিনা আরও বলেন, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর গর্ভে আসার পর তিনি একটি উজ্জ্বল জ্যোতি দেখতে পান। এর ফলে বসরা নগরী ও সিরিয়ার প্রাসাদগুলো তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়। (সিরাতে ইবনে হিশাম)

তিনি আরও বলেন, অন্য নারীদের গর্ভাবস্থায় সাধারণত যে বমি বমি ভাব, অবসাদ বা অসুস্থতা দেখা দেয়, মুহাম্মদ (সা.)-কে গর্ভে ধারণ করার সময় তিনি তেমন কিছু অনুভব করেননি।

মহানবী (সা.)-এর জন্মের সময় পারস্যের রাজপ্রাসাদের ১৭টি গম্বুজ ভূমিকম্পে ধসে পড়া, পারস্যের শ্বেত উপসাগর শুকিয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘদিনের অগ্নিকুণ্ড নিভে যাওয়ার মতো বিভিন্ন ঘটনার কথাও কিছু ঐতিহাসিক গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। (সিরাতে মোগলতাই, পৃ. ৫)

এসব ঘটনাকে অগ্নি উপাসনা ও বিভিন্ন ধরনের গোমরাহির পরিসমাপ্তির ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

দুগ্ধপান ও শৈশব

শিশু মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রথমে তাঁর শ্রদ্ধেয় জননী এবং পরে আবু লাহাবের দাসী ছুওয়ায়বা স্তন্যদান করেন। এরপর হালিমা সাদিয়া (রা.) এই পরম সৌভাগ্যের অধিকারিণী হন। (সিরাতে মোগলতাই)

হালিমা সাদিয়া (রা.) পরবর্তী দুই বছর শিশু মুহাম্মদ (সা.)-কে দুধ পান করান। দুই বছর পূর্ণ হলে তিনি তাঁকে দুধ পান থেকে বিরত করেন। (আস-সালিহাত)

হালিমা সাদিয়া (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, শিশু মুহাম্মদ (সা.)-এর দুধ ছাড়ানোর সময় তাঁর পবিত্র জবান থেকে কিছু বাক্য উচ্চারিত হয়েছিল। বর্ণনাটিতে রয়েছে—‘আল্লাহু আকবার কাবিরা, ওয়ালহামদুলিল্লাহি কাছিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসিলা।’ (খাসায়েসুল কুবরা)

নবুয়তের সুসংবাদ

আবু উবামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, তাঁর নবুয়তের সূচনা কীভাবে হয়েছিল।

জবাবে রাসুল (সা.) তাঁর পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া এবং তাঁর ভাই ঈসা (আ.)-এর সুসংবাদের কথা উল্লেখ করেন। কোরআনে ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া হিসেবে এসেছে—

‘হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসুল প্রেরণ করো, যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন, তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১২৯)

অন্যদিকে ঈসা (আ.) তাঁর পর আগমনকারী রাসুলের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। কোরআনে এসেছে—

‘আমি আমার পরে আহমদ নামে যে রাসুল আসবেন, তাঁর সুসংবাদদাতা।’ (সূরা আস-সাফ, আয়াত ৬)

অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর। আল্লাহ আমাদের তাঁর কিতাব ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করার তৌফিক দান করুন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন