ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮

রাষ্ট্রীয় ভাতার আওতায় আসছে ৮৬ হাজারের বেশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২:১৭, ১০ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৯, ১০ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রীয় ভাতার আওতায় আসছে ৮৬ হাজারের বেশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

ফাইল ছবি

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আসছে দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা এ সুবিধা পাবেন। চলতি আগস্ট মাসেই এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১০ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্মানী ভাতার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩০১টি গির্জা।

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে গঠিত সেলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে সভাটি হয়। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের এমপি ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্ধা-৪ আসনের এমপি মোহাম্মদ শামীম কায়সারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে সম্মানী ভাতার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে।

পৌরসভাগুলোর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে চারটি মসজিদ নেয়া হবে। ‘খ’ শ্রেণির প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে নেয়া হবে তিনটি। আর ‘গ’ শ্রেণির প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে দুটি মসজিদ নির্বাচন করা হবে।

সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ছয়টি করে মসজিদ এ সুবিধার আওতায় আসবে।

দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে পাঁচটি করে মন্দির নির্বাচন করা হবে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি থেকে দুটি এবং অন্যান্য শ্রেণির পৌরসভা থেকে একটি করে মন্দির নেয়া হবে।

বাকি মন্দিরগুলো ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নির্বাচন করা হবে।

অন্যদিকে, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হবে।

নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ধর্মীয় নেতাদের নির্ধারিত হারে মাসিক সম্মানী দেয়া হবে।

মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা করে।

মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ও গির্জার সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা করে।

আর মসজিদের খাদেমকে দেওয়া হবে ২ হাজার টাকা।

সম্মানীর অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতিতে পাঠানো হবে।

মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী দিতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকারের হিসাবে, এ অর্থবছরে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় উপাসনালয় এ সুবিধার আওতায় আসবে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো সম্মানী দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পে দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তি এ সুবিধা পান।

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ পাইলট প্রকল্প নেয়া হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের এক মাস না পেরোতেই গত ১৪ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ওই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন