শিরোনাম
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩:৩২, ১১ আগস্ট ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
ইসলামে বিবাহের আগে পাত্রের জন্য সম্ভাব্য পাত্রীকে দেখা অনুমোদিত, বরং বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে একে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এর কিছু শরয়ি সীমা ও আদব রয়েছে।
ইসলামে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখার নিয়ম
১. বিয়ের ইচ্ছা থাকা জরুরি
শুধু কৌতূহল বা সময় কাটানোর জন্য মেয়ে দেখা যাবে না। সত্যিকারভাবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে হবে।
২. মেয়েকে দেখা যাবে
নবী মুহাম্মদ (সা.) একজন সাহাবিকে বিয়ের আগে পাত্রী দেখে নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। হাদিসে এসেছে, এতে তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও বোঝাপড়া তৈরির সম্ভাবনা বাড়ে।
৩. কী দেখা যাবে—এ নিয়ে আলেমদের মতভেদ আছে
অধিকাংশ আলেমের মতে, বিয়ের উদ্দেশ্যে নারীর মুখ ও হাত দেখা যায়। কিছু আলেম প্রয়োজন ও প্রচলিত রীতির ভিত্তিতে এর চেয়ে কিছুটা বেশি দেখার অনুমতি দিয়েছেন। তবে এ ক্ষেত্রে পর্দা ও শালীনতার সীমা বজায় রাখা জরুরি।
৪. নির্জনে দেখা করা যাবে না
পাত্র ও পাত্রী বিয়ের আগে পরস্পরের জন্য গায়রে মাহরাম। তাই দুজনকে এমন জায়গায় একান্তে রাখা যাবে না, যেখানে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি নেই। পরিবারের সদস্য বা মাহরাম ব্যক্তির উপস্থিতিতে কথা বলা ও দেখা করা নিরাপদ ও শরিয়তসম্মত পদ্ধতি।
৫. কথা বলা যাবে, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী
বিয়ের আগে একে অপরের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার জন্য কথা বলা যেতে পারে। যেমন—
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জীবনযাপন।
শিক্ষা ও পেশা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
পরিবার সম্পর্কে প্রত্যাশা।
কোথায় বসবাস করবেন।
সংসার ও দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়।
তবে অপ্রয়োজনীয় ঘনিষ্ঠতা, প্রেমের সম্পর্ক বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা এড়িয়ে চলতে হবে।
৬. শুধু সৌন্দর্য নয়, চরিত্রও দেখতে হবে
ইসলামে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সৌন্দর্য ও সম্পদের পাশাপাশি দ্বীন ও চরিত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ বিয়ের সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি। বাহ্যিক সৌন্দর্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু ভালো চরিত্র সংসারকে স্থায়ী ও সুন্দর করতে বড় ভূমিকা রাখে।
৭. মেয়ের সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ
বিয়েতে শুধু পরিবার রাজি হলেই যথেষ্ট নয়। মেয়ের নিজের সম্মতিও থাকতে হবে। জোর করে বিয়ে দেওয়া ইসলামের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
৮. পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া
মেয়ে দেখার পাশাপাশি তার পরিবার, চরিত্র, সামাজিক আচরণ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক সম্পর্কে বিশ্বস্ত সূত্রে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। একইভাবে মেয়ের পরিবারও পাত্র সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা মানে কাউকে পরীক্ষা করা বা পণ্য হিসেবে মূল্যায়ন করা নয়। এটি দুজন মানুষের সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী হিসেবে একে অপরকে বোঝার একটি সুযোগ। তাই ইসলামী পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত—শালীনতা বজায় রেখে যথেষ্ট তথ্য জানা এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
সবশেষে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইস্তিখারা করা এবং অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত মানুষের পরামর্শ নেওয়াও উপকারী। তবে ইস্তিখারাকে শুধু স্বপ্ন দেখার বিষয় হিসেবে না দেখে আল্লাহর কাছে কল্যাণকর সিদ্ধান্তের জন্য দোয়া ও নিজের দায়িত্বশীল বিবেচনার অংশ হিসেবে দেখা উচিত।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই